মানবতাবিরোধী অপরাধে আলবদর কমান্ডার মীর কাসেম আলীর ফাঁসি হয়ে যাওয়ায় এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সামনে রয়েছে আরেক যুদ্ধাপরাধী রাজাকার দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রিভিউ নিষ্পত্তির বিষয়টি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড হলেও আপিলের রায়ে ফাঁসি থেকে রেহাই দিয়ে তাকে আমৃত্যূ কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ তা রিভিউ বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করলেও সেটি শুনানির অপেক্ষায়।
এদিকে, মীর কাসেমের দণ্ড কার্যকরের মধ্য দিয়ে ৩ বছরে ফাঁসি হয়েছে শীর্ষ ৬ মানবতাবিরোধী অপরাধীর। এখন ট্রাইব্যুনালের ২৫টি রায়ের মধ্যে ১৭টি নিয়ে আপিল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় হয়েছে।
রাজাকার দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার এবং আসামিপক্ষ রিভিউ আবেদন করেছে এ বছরের জানুয়ারি মাসে। যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার রিভিউ আবেদনের পূর্ণাঙ্গ রায়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এইসব মামলার শুনানি নিষ্পত্তির কথা বলা হলেও প্রায় আট মাস পার হয়ে গেলেও সাঈদীর রিভিউ আবেদনের শুনানি এখনো হয়নি।
আল বদর কমান্ডার মীর কাসেম আলীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হওয়ার পর এখন সবাই রাজাকার সাঈদীর রিভিউ শুনানির অপেক্ষায়।
সাঈদীর বিরুদ্ধে আনা ২০টি অভিযোগের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে ৮টি অভিযোগ প্রমাণিত হলেও, আপিল বিভাগের রায়ে বিবেচনায় নেয়া হয় ৫টি অভিযোগ।
ইব্রাহিম কুটি ও বিসাবালিকে হত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনাল সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দিলেও আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সাজা কমিয়ে ইব্রাহিম কুটিকে হত্যার দায়ে ১২ বছর এবং বিসাবালিকে হত্যার দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধে সাঈদীর কর্মকাণ্ডকে জঘন্য বলা হলেও মূল অপরাধীর অনুপস্থিতিতে সহযোগীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া যায় না।
পাশাপাশি রায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউটরের গাফিলতির কথা তুলে ধরে তাদের ভর্ৎসনা করা হয়।
এখন আরো ৭ মানবতাবিরোধী অপরাধীর আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এরা হলেন:
এটি এম আজহারুল ইসলাম,
আব্দুস সুবহান,
মোবারক হোসেন,
সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার,
মাহিদুর রহমান,
ফোরকান মল্লিক ও আকরাম হোসেন।
এছাড়াও ৪টি যুদ্ধাপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া পলাতক ৫ আসামি আপিল করেননি। এরা হলেন:
বাচ্চু রাজাকার,
বদর বাহিনীর নেতা চৌধুরী মঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খান,
খোকন রাজাকার ও রাজাকার সৈয়দ হাসান আলী।
বদর কমাণ্ডার মীর কাসেম আলীর সাজা কার্যকরের মধ্যে দিয়ে গত ৩ বছরে শীর্ষ ৬ মানবতাবিরোধী অপরাধীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা হলো। অন্যরা হলেন:
যুদ্ধাপরাধী আব্দুল কাদের মোল্লা,
দুই বদর কমাণ্ডার মোহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ,
যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী আর আল বদর প্রধান মতিউর রহমান নিজামী।
এছাড়াও আপিল শুনানির সময় রাজাকার শিরোমণি গোলাম আযম ও আব্দুল আলীম মারা যাওয়ায় তাদের আপিল আবেদন অকার্যকর হয়ে যায়।