বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়কর নেয়া ‘অবৈধ’ করে হাইকোর্টের রায় দুই মাসের জন্য স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ।
বুধবার রাষ্ট্রপক্ষের করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার এ আদেশ দিয়েছেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন।
গত সোমবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক আয়ের ওপর ১৫% আয়কর আরোপ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জারি করা দুটি প্রজ্ঞাপন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট।
ওইদিন বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।
কমপক্ষে ২৫টি রিট আবেদনের ওপর দেয়া রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে প্রজ্ঞাপনের আওতায় যেসব অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে তা-ও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোকে ফেরত দিতে এনবিআরকে নির্দেশ দেয়া হয়।
রিটকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ আদেশের ফলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এখন থেকে আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ আয়কর প্রদান করতে হবে না।
রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রজ্ঞাপন দুটি সংবিধানের ১৫, ১৭, ২৭, ৩১, ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি—এমনকি ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের ৪৪ (৪) (বি) এর পরিপন্থি।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাজ রুটিন ওয়ার্ক করা তবে তারা এ ধরনের ভ্যাট আরোপের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা বেআইনি।
আদালতে নর্থ সাউথসহ পাঁচটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. সাখাওয়াত হোসেন ও আইনজীবী শাহ মো. আশিকুল মুর্শীদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ রাশেদ জাহাঙ্গীর শুভ্র।
রায়ের পর রাশেদ জাহাঙ্গীর বলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে— কারণ এ রায়ের সঙ্গে সরকারের রাজস্ব জড়িত রয়েছে।
মামলার বিবরণ
গত ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এবং ২০১০ সালের ১ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়ের ওপর ১৫ ভাগ করারোপ করে দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর।
এর বিরুদ্ধে ২০০৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ, মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে ২৫টি রিট দায়ের করে।
রিট আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হচ্ছে অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জনসাধারণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা। সেখানে সরকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর করারোপ করে প্রকারান্তরে সংবিধান লঙ্ঘন করেছে।
রিট আবেদনে আরো বলা হয়, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ সরকারি ভর্তুকিতে চলে তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে কোনো ভর্তুকি দেয়া হয় না, এতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে টিউশন ফি বেড়ে যাচ্ছে। ফলে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে—এটা সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি।
এছাড়া যে সময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুমোদন দেয়া হয়, তখন কোনো করারোপের শর্ত ছিল না বলেও রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়।