গেরিলা বাহিনীর দুই হাজার ৩৬৭ জন মুক্তিযোদ্ধার তালিকা-সংবলিত গেজেট বাতিলের প্রজ্ঞাপন অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দিয়েছে।
পাশাপাশি তালিকা প্রকাশের দিন (২০১৩ সালের ২২ জুলাই) থেকে গেরিলা বাহিনীর এসব সদস্যকে সুযোগ-সুবিধা দিতে বলা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০১৩ সালের ২২ জুলাই এক প্রজ্ঞাপনে গেরিলা বাহিনীর ২ হাজার ৩৬৭ জন মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশ করে। গেরিলা বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ও ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য কমরেড মণি সিংহ ও অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের নাম ছিল। তবে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ওই তালিকা-সংবলিত গেজেটটি বাতিল করা হয়।
পঙ্কজ ভট্টাচার্য ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্টে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনীর এ তালিকা বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন।
রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল দেয় তাতে তালিকা বাতিলের ওই প্রজ্ঞাপনটি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে তালিকা বাতিলের ওই প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়।
চলতি মাসের ৫ সেপ্টেম্বর ওই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট আজ ৮ সেপ্টেম্বর রায়ের দিন ঠিক করে এর ধারাবাহিকতায় আদালত রায় ঘোষণা করেছে।
আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী ও জাহিদুল বারি আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এস এম নাজমুল হক।
পরে সুব্রত চৌধুরী বলেন, গেরিলা বাহিনীর তালিকা বাতিলের প্রজ্ঞাপনটি অবৈধ ঘোষণা করেছে আদালত। ফলে ২০১৩ সালের ২২ জুলাই গেরিলা বাহিনীর যে তালিকা করা হয়েছিল, তা বহাল রইল। ওই দিন থেকে এসব মুক্তিযোদ্ধাকে যাবতীয় সুবিধা ও পাওনা নিশ্চিত করতে বলেছে আদালত।