মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া দুই হাজার ৩৬৭ জন গেরিলার ‘মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি’ নিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের ওপর স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরো দুই সপ্তাহ বাড়িয়েছে আপিল বিভাগ।
রোববার প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধার তালিকা সম্বলিত গেজেট বাতিলে সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
গত ৯ অক্টোবর ওই রায় স্থগিতের আবেদন নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে গেলে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি বিষয়টি ৩০ অক্টোবর শুনানির জন্যঅ পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়। ওই সময় পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত রাখতে বলেন তিনি।
বিষয়টি আপিল বিভাগের আজ-রোববারের কার্যতালিকায় আসে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। হাইকোর্টে রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন সৈয়দ আমিরুল ইসলাম ও সুব্রত চৌধুরী।
নিয়মিত আপিলের আবেদন করা হয়েছে কি-না তা জানতে চায় আদালত। রাষ্ট্রপক্ষ জানায় রায়ের অনুলিপি না পাওয়ায় তারা সেটা করতে পারেননি— তখন আদালত দুই সপ্তাহের জন্য বিষয়টি মুলতবি করে এবং ওই সময় পর্যন্ত স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে বলেন শুনানি শেষে সুব্রত চৌধুরী।
ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা মুক্তিযুদ্ধের সময় একটি গেরিলা বাহিনী গঠন করে মুক্তি সংগ্রামে অংশ নেয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম) আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্রসমর্পণ করে ওই গেরিলা বাহিনীর সদস্যনরা।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০১৩ সালের ২২ জুলাই ওই গেরিলা বাহিনীর দুই হাজার ৩৬৭ জনের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় যুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। রের বছর ২৯ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওই গেজেট বাতিল করে। সেখানে বলা হয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সভার সুপারিশ অনুসারে ‘ক্রুটিপূর্ণ’ গেজেটটি বাতিল করা হল।
গত ২০১৪ সালের গেজেট বাতিলের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ডিসেম্বরে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ও ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য।
গত ছর ১৯ জানুয়ারি ওই আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের বেঞ্চ গেজেট বাতিলের প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করে।
সেই সঙ্গে রুল জারি করে জানতে চাওয়া হয়- ওই প্রজ্ঞাপন কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষরকারী উপসচিব ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালকের কাছে এর জবাব চাওয়া হয়।
রুলের ওপর শুনানি শেষে ৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট গেজেট বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে।