দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ৩ বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের করা আপিলের শুনানির দিন আগামী ১৫ নভেম্বর দিন ঠিক করেছে আদালত।
মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুসের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছে।
গত ২২ আগস্ট এরশাদের করা আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করে দুদক। তারই ধারাবাহিকতায় আপিলটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়।
আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন মোহাম্মদ খুরশীদ আলম খান। এরশাদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনীবী শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম।
মামলার বিবরণে জানা যায়, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের বিরুদ্ধে ১৯৯১ সালের ৮ জানুয়ারি তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর উপপরিচালক রাজধানীর সেনানিবাস থানায় দুর্নীতির এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় এক কোটি ৯০ লাখ ৮১ হাজার ৫৬৫ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়। ওই মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ১৯৯২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি এক রায়ে এরশাদকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন। এরশাদ ওই বছর হাইকোর্টে আপিল করলে দণ্ড স্থগিত হয়ে যায়। পরে ২০১২ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন এ মামলায় পক্ষভুক্ত হয়। এর পর ২২ আগস্ট আপিলটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের আবেদন করে দুদক।
প্রসঙ্গত, ১৯৯০ সালে গণআন্দোলনের মুখে এরশাদ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় তিন ডজন মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় তার সাজার আদেশ হয় এবং একটিতে তিনি সাজা খাটা শেষ করেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে এরশাদ নির্বাচন কমিশনে যে হলফনামা দেন, তাতে তখনও আটটি মামলা বিচারাধীন ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। এই আট মামলার মধ্যে চারটির কার্যক্রম উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত রয়েছে। মঞ্জুর হত্যাসহ তিনটি মামলা বর্তমানে চালু রয়েছে।