জামাতের নতুন আমির মকবুল আহমাদের বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি অভিযোগ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে মকবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছন তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান।
এদিকে, মুক্তিযুদ্ধের সময় মকবুল আহমাদ রাজাকার ছিলে বলে অভিযোগ করেছেন ফেনীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তদন্ত সাপেক্ষে তার অপরাধের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
জামাতের সাবেক আমির আল বদর প্রধান মতিউর রহমান নিজামী গ্রেপ্তারের পর থেকে বিগত ৬ বছরের বেশি সময় ধরে দলটির ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব পালন করেন মকবুল আহমাদ। এরপর মানবতাবিরোধী অপরাধের নিজামীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হওয়ার পর দলের নতুন আমির হিসেবে দায়িত্ব পান মকবুল আহমাদ।
গত ১৮ অক্টোবর একটি অনলাইন ভিত্তিক নিউজ পোর্টালে 'জামাতের নতুন আমির: ৭১ এর রাজাকার-কমান্ডার, আছে হত্যার অভিযোগও' শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় মকবুল আহমাদ রাজাকার ছিলেন। তারই নির্দেশে ফেনীর স্থানীয় রাজাকার, আল বদর বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা ওয়াজ উদ্দিনকে চট্টগ্রামে নিয়ে হত্যা করে। এছাড়া হিন্দু পাড়ায় আগুন দিয়ে ১০ জনকে মারার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অন্যান্য গণমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে খবর ছাপা হয়।
এ বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার নজরে এলে মকবুল আহমাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরুর নির্দেশ দেয়া হয়। অনুসন্ধান শেষে মকবুলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান।
মকবুল আহমাদের অপরাধের বর্ণনা দিয়ে দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধাসহ ভুক্তভুগিরা।