কলেজছাত্রী বুশরা হত্যার ঘটনায় করা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এম এ কাদের ও তার স্ত্রী যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রুনা আক্তার খালাস পেয়েছেন।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ রায় দিয়েছে।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আসামিদের আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দিয়েছে। একইসঙ্গে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ও পরে হাইকোর্টে খালাস পাওয়া আরো দুজনের খালাস আদেশ বহাল রয়েছে।
তারা হলেন: শেখ শওকত আহমেদ ও শেখ কবির আহমেদ, সম্পর্কে তারা দুজনেই এম এ কাদেরের শ্যালক।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খোন্দকার দিলিরুজ্জামান। আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।
পরে দিলিরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, রায়ের কপি পাওয়ার পর পর্যালোচনা করে রিভিউয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তিনি বলেন, হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে খালাস দিয়েছিলেন, এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেছিলেন তাও খারিজ হয়েছে ফলে দুজনের খালাস আদেশ বহাল রয়েছে।
হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা এম এ কাদের ও যাবজ্জীবন পাওয়া রুনা আক্তার আপিল করেছিলেন। তাদের আপিল মঞ্জুর করেছে আদালত ফলে তারাও খালাস পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত: ২০০৩ সালের ৩০ জুন বুশরা হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত রায় দেয়। রায়ে তিন জনকে মৃত্যুদণ্ড ও রুনা আক্তারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল করেন। ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টে আসে, ২০০৭ সালের ২৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেয়।
উল্লেখ, ২০০০ সালের ১ জুলাই রাতে রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরী পাড়ার বাসায় খুন হন সিটি কলেজের ছাত্রী রুশদানিয়া বুশরা ফুল। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ধর্ষণের পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয় বুশরাকে।
বুশরার বাবা সহকারী পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম ওই সময় অবসরকালীন ছুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। বুশরার মা লায়লা ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পরদিন রমনা থানায় মামলা করেন।