গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতালদের রোপণ করা ধান কাটার ও তাদের কাছে বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার এক রিটের শুনানি শেষে এ নির্দেশ দিয়ে আদালত জানায় একইসঙ্গে তাদের অবাধে চলাফেরার অধিকার নিশ্চিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় চিনিকলের ডেপুটি ম্যানেজার রতন কুমার হালদারকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এদিকে, জেলা পুলিশ সুপার ও গোবিন্দগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) সাঁওতালদের উচ্ছেদের বিষয়ে কী কী আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, এবং কয়টি মামলা হয়েছে তা ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দীন ও জেড আই খান পান্না। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।
গতকাল সাঁওতালদের ওপর হামলার ঘটনায় আইনগত কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা জানিয়ে প্রতিবেদন
দাখিলের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।
হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করে তিনটি সংগঠন হলো আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), ব্রতী সামাজিক কল্যাণ সংস্থা ও অ্যাসোসিয়েশন অব ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট।
আসকের কৌঁসুলি অবন্তী নুরুল রিট আবেদন করার বিষয়টি নিশ্চিত কলেন, ঘটনাস্থলে কোন কর্তৃত্ববলে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি ব্যবহার করা হয়েছে এর ব্যাখ্যা দাখিলে রিটে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রংপুরের গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চিনিকলের জায়গা কখনোই সাঁওতালদের ছিল না—তাদের ব্যবহারকারী ভূমিদুস্যূ বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের ওপর হামলার পর তাদের আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়িঘর করে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন –এ কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সচিবালয়ে বুধবার সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
জঙ্গি কর্মকাণ্ডে ব্যর্থ হয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করা হয়েছিল ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে— স্বার্থান্বেষী মহলের সে চেষ্টা সরকার ব্যর্থ করে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে ঘটাতে না পারে সেবিষয়েও সতর্ক নজরদারি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারের আইন শৃংখলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি আমু।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারি জমি দখলের জন্য ভূমিদস্যুরা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের ব্যবহার করেছে বলে জানান তিনি।
গত ৬ নভেম্বর রংপুর চিনি কলের সাহেবগঞ্জ আখের খামারের স্থাপনা উচ্ছেদের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় তাদের। এতে ওই দিন একজন মারা যান। পরে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় ধানখেত থেকে। সাঁওতালদের অভিযোগ, শেষের জন ওই হামলায় আহত হয়ে মারা গেছেন।
আহত হন পুলিশসহ কমপক্ষে ৩০ জন। এছাড়া সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরেও আগুন দেয়া হয়।
হামলায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় সাংসদ ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাঁওতাল নেতারা। গতকাল রোববার বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের মাদারপুর গির্জার সামনে এক সমাবেশে তারা এ অভিযোগ করেন। সমাবেশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, জাতীয় আদিবাসী ফোরাম ও বিশিষ্ট নাগরিকদের দুটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল।