রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের এক সাবেক কর্মকর্তার স্ত্রী ও তার কিশোরী গৃহকর্মীকে গলাকেটে হত্যার দায়ে ২ জনকে মৃত্যুবদণ্ড দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুর রহমান সরদার এ রায় ঘোষণা করেন।
আসামি সাঈদ হাওলাদার ও রিয়াজ নাগরালী, তারা সম্পর্কে ওই গৃহকর্মীর ভাই ও তার এক বন্ধু।
আদালতের পেশকার আবুল কালাম আজাদ বলেন, রায় ঘোষণার সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন তারা।
এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি দুই আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।
পুলিশ কর্মকর্তার শ্যালক মোয়াজ্জেম হোসেন পরদিন যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন।
ওই মামলায় কল্পনার পরিচিতরা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
হত্যাইকাণ্ডের দুদিন পর শাহজাহানপুর থেকে কল্পনার ভাই সাঈদ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে যাত্রাবাড়ি পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, দশ হাজার টাকা চাওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বন্ধু রিয়াজকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ওই হত্যািকাণ্ড ঘটনা।
টেবিল থেকে ছুরি নিয়ে রওশন আরাকে হত্যার ঘটনা কল্পনা দেখে ফেলায় তাকেও হত্যাাকরা হয়— পুলিশের কাছে স্বীকার করেন কল্পনার ভাই।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বোনের কাজের সুবাদে ওই বাসায় প্রায়ই যাওয়া আসা করত সাঈদের। রওশন আরাকে তিনি ‘নানু’ ডাকতেন।
হত্যাইকাণ্ডের পর ওই বাসা থেকে ১৪ হাজার টাকা, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় আসামিরা। গ্রেপ্তার হওয়ার পর তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।
যাত্রাবাড়ী থানার উপ পরিদর্শক ইকবাল হোসেন এ মামলার তদন্ত শেষে সাঈদ ও রিয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।
বাদীপক্ষে মোট ১১ জনের সাক্ষ্য শোনার পর বিচারক মঙ্গলবার দুই আসামিকে দোষী সাব্য্স্ত করে সাজা ঘোষণা করেছে।
উল্লেখ, গতবছর ২৪ মার্চ রাতে উত্তর যাত্রাবাড়ীর কলাপট্টির একটি বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল কুদ্দুসের স্ত্রী রওশন আরা বেগম (৬৩) এবং গৃহকর্মী কল্পনার (১২) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সাবেক ওই পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুস ১৯৯৪ সালে মারা যান। তাদের দুই মেয়ে ও তিন ছেলের সবাই বিদেশে থাকেন। কল্পনাকে নিয়ে তিন তলা ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকতেন রওশন আরা।