ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় দুর্বৃত্তের আঘাতে দুই পা হারানো বাবা শাহানূর বিশ্বাসের চিকিৎসার খরচ রাষ্ট্রকে বহনের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্বাস্থ্যসচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতি এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে শাহনূরের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও পুলিশের মহাপরিদর্শক ও ঝিনাইদহের পুলিশ সুপারের প্রতি এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গত ২২ নভেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপারকে সব আসামিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কারাবন্দী করে ২৭ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমার আদেশ দেয়।
ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় চাইলে আজ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ঠিক করে আদালত।
এর ধারাবাহিকতায় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস পুলিশ সুপারের প্রতিবেদন তুলে ধরেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই ঘটনায় করা মামলায় ১৬ আসামির মধ্যে তিন জন গ্রেপ্তার করা হলে পরে ১৩ জন আত্মসমর্পণ করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন জামিনে আছে।
‘মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করাই অপরাধ? দুই পা গেছে, এখন ভিটেছাড়া হওয়ার ভয়’ শিরোনামে ২১ নভেম্বর দৈনিক প্রথম আলোতে প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদনটি আদালত নজরে আনা হলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব আসামিকে কারাবন্দী করার নির্দেশ দেয়।
প্রসঙ্গত: ১৬ অক্টোবর ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার নলভাঙ্গা গ্রামে বখাটে যুবকেরা শাহানূরকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
এ ঘটনার পর তার আত্মীয় মো. ইয়াকুব আলী জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে সাত জনকে আসামি করে।
মামলায় অভিযোগ বলা হয়, আসামিরা প্রথমে লোহার শাবল দিয়ে পিটিয়ে মাটিতে ফেলে দেন শাহানূরকে। পরে হাতুড়ি ও ছেনি দিয়ে হাঁটুতে আঘাত করেন। লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পেটান। এতে শাহানূরের মারাত্মক রক্তক্ষরণ হয়। পেশায় বর্গাচাষী শাহানূরের দুটি পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলতে হয়েছে। ১৬ জনকে আসামি করে অপর মামলাটি করেন শাহানূরের ভাই মহিনূর।