জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
এ মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করতে আদালতে হাজির রয়েছেন তিনি।
আদালত ৮ ডিসেম্বর আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির পরবর্তী দিন ঠিক করেছে।
মামলাটিতে ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে দেয়া লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে সুবিচার চেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আত্মপক্ষ সমর্থন করে খালেদা জিয়া আদালতকে বলেছে সাক্ষীদের সাক্ষ্যে যে বক্তব্য এসেছে তা সঠিক নয়; তিনি সাফাই সাক্ষী হাজির করতে চান।
এছাড়া, গোটা দেশ কারাগারে পরিণত হয়েছে, বিএনপির নেতা-কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে আদালতে এ রাজনৈতিক বক্তব্যও দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বকশিবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের অস্থায়ী আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত বক্তব্য দাখিল করেন খালেদা।
আদালতে ১৫ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে দেয়া বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসন কিছু রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তিনি নিজেসহ তার দলের নেতা-কর্মীরা নির্যাতনের মধ্যে আছেন বলেও অভিযোগ করেন।
এ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলা দু’টির বিচারিক কার্যক্রম চলে।
এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আদালতে হাজির হন দুই মামলারই প্রধান আসামি খালেদা জিয়া।
এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক হারুন-অর রশিদকে আসামিপক্ষের জেরা শেষ হয়। মামলাটির আসামি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমানের পক্ষে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট বোরহানউদ্দিন তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা শেষ করেন, এরমধ্য দিয়ে এ মামলার ৩১ সাক্ষীরই সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়।
এরপর চ্যারিটেবল মামলায় খালেদার আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমেই তাকে সকল সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণসহ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পড়ে শোনান বিচারক। পরে খালেদা জিয়া তার লিখিত বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন করেছেন।
সর্বশেষ গত ২৪ নভেম্বর অনুপস্থিত খালেদার আইনজীবীদের আবেদনক্রমে চ্যারিটেবল মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ফের পিছিয়ে আজ- ১ ডিসেম্বর পুনর্নির্ধারণ এবং তাকে অবশ্যই হাজির থাকার নির্দেশ দেয় আদালত। অন্যথায় বিধি অনুসারে তার জামিন বাতিল করা হবে বলেও জানায়।
এ মামলায় মোট আসামি চারজন তারা হলেন: খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন মোট ৩২ জন সাক্ষী। জামিনে থাকা অন্য দুই আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন। হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু থেকেই পলাতক।
এদিকে, অরফানেজ মামলায় খালেদা জিয়া-তারেকসহ আসামি মোট ছয় জন। অন্য চার আসামি হলেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।
আসামিদের মধ্যে ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক। বাকিরা জামিনে আছেন।
জামিনে থাকা দুই মামলার আসামিরাও আদালতে উপস্থিত রয়েছেন। তারেক রহমানের পক্ষে হাজিরা দিয়েছেন তার আইনজীবী।
উল্লেখ, ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা দায়ের করা হয়। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়।
এছাড়া ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুদক। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়।
২০১৪ সালের ১৯ মার্চ দুই মামলায় খালেদা জিয়াসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ঢাকা তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের আগের বিচারক বাসুদেব রায়।
এদিকে, সকালে বিভিন্ন মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আগামী ৯ জানুয়ারি হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
পাশাপাশি হাজির না হলে তার জামিন বাতিল হবে বলে জানিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা এ আদেশ দেন।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নাল আবেদীন বলেন, রাজধানীর দারুস সালাম থানায় করা বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের নয়টি মামলা এবং রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলায় অভিযোগ গঠনের দিন ঠিক ছিল আজ।
আদালতে খালেদা জিয়ার হাজিরার দিন থাকলেও তিনি হাজির হতে পারেননি বলে তার আইনজীবী।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী বলেন, আজ আদালতের কাছে সময় চেয়ে আবেদনের পর শুনানি শেষে আগামী ৯ জানুয়ারি চেয়ারপারসনকে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছে।