সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় বুধবার মৃত্যদণ্ডপ্রাপ্ত মুফতি হান্নানসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।
বুধবার প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে ওই তিন জঙ্গির আপিল খারিজ করে দেয়।
এর ফলে তিন আসামি মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার ওরফে রিপনের সামনে এখন কেবল আপিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ থাকল।
তাও নাকচ হয়ে গেলে শেষ চেষ্টা হিসেবে তারা অপরাধ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন ওই আবেদনও প্রত্যাতখ্যানত হলে কারাবিধি অনুযায়ী তাদের দণ্ড কার্যকর করবে সরকার।
তিন আসামির মধ্যেে আপিলকারী মুফতি হান্নান ও বিপুলের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আলী। আর রিপনের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. হেলাল উদ্দিন মোল্লা।
গতকাল প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ শুনানি শেষে রায়ের এ দিন ঠিক করা হয়।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
গত ৩০ নভেম্বর এ শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।
মামলার বিচার শেষে ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত মুফতি হান্নানসহ তিন জনকে মৃত্যুদণ্ড ও বাকিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।
নিয়ম অনুসারে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করতে প্রয়োজনীয় নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি ২০০৯ সালে আসামিরা জেল আপিলও করেন।
প্রায় সাত বছর পর গত ৬ জানুয়ারি এ মামলায় হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়। পরে বিচারিক আদালতের দণ্ড বহাল রেখে ১১ ফেব্রুয়ারি এ রায় ঘোষণা করা হয়।
গত ২৮ এপ্রিল হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। এরপর ১৪ জুন রায় হাতে পাওয়ার পর ১৪ জুলাই আপিল করেন আসামিপক্ষ।
উল্লেখ, ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটের হজরত শাহজালালের (র.) মাজারে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। ও্ই হামলায় আনোয়ার চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রশাসকসহ প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত এবং পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত হন।