গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক তলব পেয়ে সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন।
গত ৬ ডিসেম্বর বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গাইবান্ধার জেলা প্রশাসককে আজ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়।
সাঁওতালদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবেদনে ‘বাঙালি দুষ্কৃতকারী’ শব্দ ব্যবহার করায় আদালতের তলবে হাইকোর্টে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ নিয়ে করা রিটের শুনানিকালে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদের দেওয়া প্রতিবেদনে ‘বাঙালি দুষ্কৃতকারী’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। এ কারণে তাকে ৬ ডিসেম্বর তলব করেন হাইকোর্ট। গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবেদনে কেন এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে তার ব্যাখ্যা দিতে ১২ ডিসেম্বর তাকে সশরীরে আদালতে হাজিরের আদেশ দেন আদালত। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেয়।
প্রসঙ্গত: গত ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জের রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষে ৩ জন মারা যান। ওই ঘটনায় সাঁওতালদের পক্ষে হওয়া প্রথম মামলার বাদী স্বপন মুরমুও আজ আদালতে হাজির হয়েছেন।
গত ৬ ডিসেম্বর শুনানি শেষে সাঁওতালদের পক্ষে করা প্রথম মামলার বাদী স্বপন মূর্মূকেও একই দিন হাজির করতে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার ও গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আদেশ দেন আদালত।
সাঁওতালদের জান-মাল রক্ষা, নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ ও স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ দিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে গত ১৬ নভেম্বর আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) ও ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে প্রথম রিটটি দায়ের করা হয়।
অন্যদিকে হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় কমিশন চেয়ে গত ২১ নভেম্বর দ্বিতীয় রিটটি করেন আহত দ্বিজেন টুডোর স্ত্রী অলিভিয়া হেমভ্রম ও গণেশ মুরমোর স্ত্রী রুমিলা কিসকুর পক্ষে ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া।
এ রিটের শুনানি নিয়ে পরদিন ২২ নভেম্বর সাঁওতালদের ওপর হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, গুলি ও হত্যা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। পাশাপাশি ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- তাও জানতে চেয়েছে আদালত।
স্বরাষ্ট্র সচিব, শিল্প সচিব, পুলিশের মহাপরির্শক, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক, পুলিশের রংপুর রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক, গাইবান্ধার পুলিশ সুপার, গোবিন্দগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং মহিমাগঞ্জ সুগার মিলের ম্যানেজারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।