প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র জয়কে 'অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্র' মামলায় নিম্ন আদালত থেকে নতুন করে জামিন পেয়েছেন সাংবাদিক শফিক রেহমান।
বুধবার ঢাকার মুখ্যা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক সাদবির ইয়াছির আহসান চৌধুরী এ মামলায় পুলিশ প্রতিবেদন হওয়া পর্যন্ত শফিক রেহমানের জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালতে উপস্থিত হয়ে নতুন করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। জামিন আবদেনের শুনানি শেষে আদালতের শফিক রেহমানের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার।
গত ৮ ডিসেম্বর এ মামলায় জামিনের জন্য সাংবাদিক শফিক রেহমানকে বিচারিক আদালতে যাওয়ার আদেশ দেয় আপিল বিভাগ।
ওইদিন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগে তিনি জামিনের আবেদন করলে বিচারিক আদালতে তা বিবেচনা করতে বলে।
আপিল বিভাগের আদেশ পুনর্বিবেচনা ও জামিনের মেয়াদ বাড়াতে করা আবেদন নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেয় আপিল বিভাগ।
আদালতে শফিক রেহমানের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও আসাদুজ্জামান আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
পরে আসাদুজ্জামান বলেন, তিন মাস বা মামলায় পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা পর্যন্ত, এরমধ্যে যেটি আগে হয়, ওইসময় পর্যন্ত শফিক রেহমানকে জামিন দেয় সর্বোচ্চ আদালত। তিন মাস শেষ হয় ৩০ নভেম্বর। এর আগে ১৫ নভেম্বর একটি পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়। পাশাপাশি জামিনের মেয়াদ বাড়ানোরও আবেদন হয়েছিল।
পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল না করা পর্যন্ত শফিক রেহমানের জামিন বিবেচনা করতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ বলে জানান তিনি।
উল্লেখ, গত ১৬ এপ্রিল রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পরে প্রধানমন্ত্রী ও তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণ করে হত্যাচেষ্টা পরিকল্পনার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় শফিক রেহমানকে। এ মামলায় হাইকোর্টে ৭ জুন তার জামিন আবেদন খারিজ হয়।
পরে ৩১ আগস্ট প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে শফিক রেহমানের আপিল মঞ্জুর করে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেয়।
পাঁচ মাস জেলে কাটানোর পর আপিল বিভাগের জামিনে ৬ সেপ্টেম্বর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
ওই জামিনের মেয়াদ শেষে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা ও জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবার আবেদন করে শফিক রেহমান।