র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ানের (র্যাব) কয়েকজন দুষ্কৃতকারি কর্মকর্তা কিছু অসৎ রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সন্ত্রাসীর সঙ্গে মিলে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনা ঘটিয়েছেন।
এর দায় বিপথগামী ওই সব কর্মকর্তার— তাদের দ্বারা বাহিনীর সম্মান ক্ষুণ্ণ হলেও সার্বিকভাবে সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়নি। র্যাব একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী— জঙ্গি দমনসহ দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় এ বাহিনীর গৌরব উজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। ভবিষ্যতে এ বাহিনীতে নিয়োগের সময় সতর্কতার পরামর্শও আদালতের পর্যবেক্ষণে।
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে রোববার এসব কথা উঠে এসেছে। ১৬৩ পৃষ্ঠার এই রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, নূর হোসেনের টার্গেট ছিলো প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম। দুই জনেই এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে জড়িয়ে পড়েন। দুই জনেই সন্ত্রাসী ছিলেন— তাদের ছিলো বিশাল বাহিনী। এ দ্বন্দ্বের জের ধরেই প্রাণ হারাতে হয় নিরীহ ৬ জন মানুষকে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে র্যাব সম্পর্কে বলা হয়, এই বাহিনীর বিপথগামী কয়েকজন কর্মকর্তার কারণে সাত খুনের ঘটনা ঘটেছে। আগামীতে এ বাহিনীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
এদিকে, হাইকোর্টে রোববার এ মামলার ডেথ রেফারেন্সের নথি পৌঁছায়। মামলার শুনানি যাতে দ্রুত শুরু করা যায় সে বিষয়ে চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
গত ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ৭ খুন মামলায় ৩৫ আসামির মধ্যে ২৬ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেয় আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন ও র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা লে. কর্নেল তারেক সাঈদ, লে. কমান্ডার এম. এম. রানা ও মেজর আরিফ হোসেনসহ র্যাবের ১৬ জন সদস্য রয়েছেন।