সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনার অভিযোগে রাজধানী মোহাম্মদপুর গ্রেপ্তার হওয়া জামাতের ২৮ নারীকে ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
তারা হলেন: জামাতের ১. শাহনাজ বেগম (৫৬-সেক্রেটারি বা সভানেত্রী) ২. নাইমা আক্তার (৫৫-রুকন) ৩. উম্মে খালেদা (৪০-কর্মী) ৪. জোহরা বেগম (৩৫-রুকন) ৫. সৈয়দা শাহীনা আক্তার (৪০-রুকন) ৬. উম্মে কুলসুম (৪২-সাথী) ৭. জেসমিন খান (৪৩-রুকন) ৮. খোদেজা আক্তার (৩২ -সাথী) ৯. সালমা হক (৪৫-রুকন) ১০. সাকিয়া তাসলিম (৪৭-রুকন) ১১. সেলিমা সুলতানা সুইটি (৪৮-রুকন) ১২. হাফসা (৫৫-রুকন) ১৩. আকলিমা ফেরদৌস (৩৭-রুকন) ১৪. রোকসানা বেগম (৫১-সদস্য) ১৫. আফসানা মিমি (২৫-কর্মী) ১৬. শরীফা আক্তার (৫৩-সদস্য) ১৭. রুবিনা আক্তার (৩৮-রুকন) ১৮. তাসলিমা (৫২-সদস্য) ১৯. আসমা খাতুন (৩৫-রুকন) ২০. সুফিয়া (৪১-সমর্থক) ২১. আনোয়ারা বেগম (৪৬-রুকন) ২২. ইয়াসমিন আক্তার (৪১-কর্মী) ২৩. সাদিয়া (৪৫-সমর্থক) ২৪. ফাতেমা বেগম (৫১-সমর্থক) ২৫. উম্মে আতিয়া (৪৬-রুকন) ২৬. রুমা আক্তার (৩২-রুকন) ২৭. রাজিয়া আক্তার (৪২-সমর্থক) ২৮. রহিমা খাতুন (৩০-রুকন)।
শুক্রবার সকালে মোহাম্মদপুর থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নাশকতার উদ্দেশ্যে এসব নারী এক হয়েছিলেন।
তিনি বলেন, গতকাল দুপুরের মধ্যে তাজমহল রোডের একটি বাসার (১১/৭) দ্বিতীয় তলা থেকে ওই ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযানে গেলে তারা ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে পুলিশ দরজা ভাঙতে গেলে তারা খুলে দেন। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে জামাতের উদ্দেশ্যে ছাপানো ৫০টি ও অন্য আরো ৭০টি লিফলেট, সংগঠনের মাসিক রিপোর্ট ফরম ২২৫টি, গোলাম আযমের লেখা তিনটি এবং মতিউর রহমান নিজামীর লেখা একটি বই উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা সবাই জামাতের রুকন পর্যায়ের। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল। জঙ্গিবাদের সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ২৮ জনের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, গ্রেপ্তার করা এই ২৮ জন এখনো তাদের প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখার চেষ্টা করছেন—তাদের পূর্ণাঙ্গ নাম বা সংগঠনের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করছেন না। তবে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে গ্রেপ্তার হওয়া অধিকাংশই রুকন পর্যায়ের তারা সবাই উচ্চশিক্ষিত। বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। তাদের মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পরিবারের সদস্য রয়েছেন বলেও জানা গেছে। তবে কে বা কারা সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।