জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন পিছিয়ে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পুনর্নির্ধারণ করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশিবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী তিন নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার এ আদেশ দিয়েছে।
অসুস্থতাজনিত কারণে খালেদার আইনজীবীর দুই মামলার জন্য সময়ের আবেদন করেন।
এদিকে, গতকাল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে আদালত ও বিচারক পরিবর্তনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন জানান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
বুধবার খালেদা জিয়ার পক্ষে ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন জমা দেন।
তিনি বলেন, আগামী সোমবার বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর বেঞ্চে বিষয়টি শুনানির জন্যদ আসতে পারে।
খালেদার বিরুদ্ধে ২ মামলার শুনানি চলছে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের আদালতে। দুটি মামলাই বর্তমানে আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যায়ে রয়েছে।
হাইকোর্টে করা আবেদনে অন্যর মামলায় মাসখানেক পরপর তারিখ রাখা হলেও বিচারক আবু আহমেদ জমাদার তার মামলায় কখনও কখনও এক সপ্তাহে দুইবারও দিন রাখেন। মামলার বিচারে বিচারক ‘তাড়াহুড়া’ করছেন বলে অভিযোগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলা দায়ের করে দুদক। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে দুদক ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
তার পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ বাসুদেব রায় অভিযোগ গঠন করে খালেদাসহ ছয় আসামির বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।
আসামিদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ জামিনে আছেন। খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান গত নয় বছর ধরে দেশের বাইরে, তার বিরুদ্ধে এ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
এছাড়া সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক।
দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল: