আদালত

সাঁওতালদের জন্য কি ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার, জানতে চায় হাইকোর্ট

সাঁওতালদের জন্য কি ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার, জানতে চায় হাইকোর্ট
সাঁওতালদের জন্য কি ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার, জানতে চায় হাইকোর্ট

গোবিন্দগঞ্জে চিনিকলের বিরোধপূর্ণ জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতালদের জন্য সরকার কি ব্যবস্থা নিয়েছে জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

বুধবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত রুলের পাশাপাশি এ আদেশ দিয়েছে।

আগামী ৩০ দিনের মধ্য বিষয়টি জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট—এছাড়া ভূমিহীনদের পুনর্বাসনে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও গোবিন্দগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। ভূমি সচিব, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট থানার ওসিসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে সুপ্রকাশ দত্ত অমিত এবং রংপুর চিনিকলের পক্ষে শুনানি করেন এ এম মাসুম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি সাঁওতালদের ঘরে আগুন দেয়ার ঘটনায় গাইবান্ধার পুলিশ সুপারসহ চামগাড়ি এলাকায় দায়িত্বরত সব পুলিশ সদস্যরকে প্রত্যাদহারের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

ও্ইদিন মঙ্গলবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে সাঁওতালপল্লীতে আগুন দেয়ার ঘটনায় বিচারিক তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দেয়। আগামী ৯ মার্চ এ বিষয়ে পরবর্তী দিন ঠিক রয়েছে।

আদেশে স্বরাষ্ট্রসচিবকে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলামকে প্রত্যােহারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। আর স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইজিপি ও রংপুর পুলিশের ডিআইজিকে বাকি পুলিশ সদস্যরদের প্রত্যা্হারের নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়েছে কি না- সে বিষয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে্ আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি ও রংপুর রেঞ্জের ডিআইজিকে।

গত ২৯ জানুয়ারি গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. শহিদুল্লাহ সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তার ৬৫ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানোর ঘটনার জন্য স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি এবং ওই ঘটনার সময়ে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খরা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্য দায়ী। ওই আগুন লাগানোর ঘটনার সঙ্গে দুইজন পুলিশ সদস্য ও একজন ডিবি সদস্য সক্রিয়ভাবে জড়িত।

আরও কিছু পুলিশ সদস্য ওই সময় কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন; তারা আগুন লাগানোয় সক্রিয় অংশগ্রহণ না করলেও তা নেভানোর চেষ্টা করেননি বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে।

যারা আগুন দিচ্ছিলেন, তাদের মাথায় হেলমেট থাকায় এবং অনেক দূর থেকে ঘটনাটি ভিডিও করায় ওই পুলিশ সদস্যিদের চেহারা শনাক্ত করতে পারেনি তদন্ত কমিটি। তাছাড়া মুখ্য বিচারিক হাকিম সেদিন সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরদের তালিকা চাইলেও পুলিশ সুপার তা তাকে দিতে পারেননি।

গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) আশরাফুল ইসলামকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি গাইবান্ধার সাঁওতালপল্লীতে আগুন দেয়ার দিন চামগাড়ি এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার করতেও নির্দেশ দেয় আদালত।

আজ আদালতে রিট আবেদনের ওপর শুনানি করেন আইনজীবী এ এম আমিনউদ্দিন। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

গত ৩১ জানুয়ারি আদালতে উপস্থাপন করা বিচারিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ এলাকায় সাঁওতালদের বাড়িঘরে আগুন লাগানোর ঘটনার জন্য স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি এবং ওই ঘটনার সময় দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্য দায়ী। আগুন লাগানোর ঘটনার সঙ্গে পুলিশের দুজন ও গোয়েন্দা পুলিশের একজন সদস্য সক্রিয়ভাবে জড়িত বলা হয়েছে। তবে তাদের শনাক্ত করা যায়নি। হাইকোর্ট এ প্রতিবেদনের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সরবরাহ করতে সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দিয়ে আজ আদেশের জন্য দিন রাখে।

আগুন দেয়ার ঘটনায় পুলিশ সম্পৃক্ত – বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর রিট আবেদনকারীদের করা এক সম্পূরক আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দেয়। সাঁওতালদের ঘরবাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনায় কারা জড়িত ও এতে পুলিশের কোনো সদস্য জড়িত কি না, তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিমকে নির্দেশ দেয় আদালত। এর ধারাবাহিকতায় ২৯ জানুয়ারি গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. শহিদুল্লাহ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল দপ্তরে প্রতিবেদনটি জমা দেন, পরে তা আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

গত বছরের ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জের রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ এলাকায় ওই সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত ও ৩ সাঁওতাল নিহত হন। এরপর সাঁওতালদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে গত ১৬ নভেম্বর আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), ব্রতী সামাজিক কল্যাণ সংস্থা ও অ্যাসোসিয়েশন অব ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট একটি রিট করে। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে পরদিন হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়। হাইকোর্টের আদেশের আগে ঘটনার দিন আগুন লাগানোয় পুলিশের সম্পৃক্ততা নিয়ে ১৩ ডিসেম্বর ছবিসহ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকসহ গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে সম্পূরক আবেদন করে রিট আবেদনকারী পক্ষ।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

আল আমিনের তালাক: সন্তান নিয়ে আদালতে স্ত্রী

অস্ত্র মামলা: জি কে শামীমসহ ৮ জনের যাবজ্জীবন

আবেদন করলে খালেদা জিয়ার আবারো মুক্তির মেয়াদ বাড়বে: আইনমন্ত্রী

রুবেল-বরকতের অর্থপাচার মামলা ফের তদন্তের নির্দেশ আদালতের

জাহালমকে পাঁচ লাখ টাকা দিলো ব্র্যাক ব্যাংক

৮৫ নির্বাচন কর্মকর্তাকে চাকরিতে পুনর্বহালের আদেশ বাতিল

সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে পূর্বানুমতি বাতিলের রায় স্থগিত

ডেসটিনির চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদের জামিন

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ