সাংবাদিক শিমুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি মেয়র হালিমুলের ছোট ভাই মিন্টু ও গাড়িচালক শাহীন আলমকে বুধবার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জর করেছে আদালত।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি ওই মেয়র মিরুর গাড়িচালকসহ এ মামলার প্রধান মিরুসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ হত্যা মামলায় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বেলকুচি থেকে মিরুর গাড়িচালক শাহীন আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে শাহজাদপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ নিয়ে এ মামলার প্রধান আসামি মিরুসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। ১৩ ফেব্রুয়ারি অন্য সাতজনের রিমান্ডের বিষয়ে শুনানি হয়।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি শিমুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিমুল হক মিরু কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।
সোমবার মিরুকে সিরাজগঞ্জের বিচারিক হাকিম আবদুল্লাহ আল মামুনের আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিরু শিমুল হত্যাকাণ্ডের কথা অস্বীকার করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান পুলিশ সুপার।
শিমুলের নিহতের ঘটনার মূলহোতা পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুকে রোববার গ্রেপ্তারের পর তাকে সিরাজগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘাতক মেয়রকে রোববার রাতে ঢাকায় গ্রেপ্তার হয়। রাজধানীর শ্যামলী এলাকা থেকে রাত সাড়ে ৯টার পর তাকে সিরাজগঞ্জে নেয়া হয়। এ সময় ফরিদ নামের তার এক সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগ ও সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ।
এর আগে সকালে পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরু ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কে এম নাসির উদ্দিন এ দুইজনকে দল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করে উপজেলা আওয়ামী লীগ।
এদিকে, শাহজাদপুর উপজেলার পৌরমেয়র হালিমুল হক মিরুর পাসপোর্ট নম্বর ব্লক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। রোববার দুপুরে পুলিশ সদরদপ্তরের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা কামরুল আহসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র মিরু জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তার সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কে এম নাসির উদ্দিনকেও বহিষ্কার করতে বলেছে উপজেলা কমিটি। উপজেলা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক ‘জরুরি সভায়’ এ সিদ্বান্ত হয় বলে জানান।
জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেয়র মিরু নিজেও গুলি ছোড়ার কথা স্বীকার করেন। তবে তাদর দাবি, প্রতিপক্ষের গুলির জবাবে তিনি এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করেছিলেন।
সাংবাদিক শিমুলের স্ত্রী এ ঘটনায় একটি হত্যাি মামলা দায়ের করেন, যাতে মেয়র মিরু, তার ভাই মিন্টুসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া বিজয়কে মারধরের ঘটনায় তার চাচা এরশাদ আলী বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেন সেখানে মিরু, তার ভাই পিন্টু ও মিন্টুসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত: বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজাদপুরের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত মেয়র হালিমুল হক মিরুর ছোট ভাই হাফিজুল হক পৌর শহরের কালীবাড়ি মোড়ে শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদকে মারধর করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে বিজয়ের সমর্থক, কলেজছাত্ররা ও মহল্লার লোকজন একযোগে বেলা ৩টার দিকে মেয়রের বাসায় হামলা চালান। হামলাকারীদের লক্ষ্য করে হালিমুল হক মিরু তার শর্টগান থেকে গুলি ছোড়েন।
এসময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন হাকিম। সংঘর্ষের সময় তার মাথা ও মুখে গুলি লাগে। তাকে প্রথমে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়, অবস্থার অবনতি হলে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় আনার পথে তিনি মারা যান। গতকাল তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী নুরুন নাহার বেগম শুক্রবার শাহজাদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে মেয়র হালিমুল হক, তার দুই ভাইসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।