ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল তার আবেদন মঞ্জুর করে ১০ দিনের মধ্যে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) তার স্বাক্ষরিত লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলেছে।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার রাজাকার মৃত ওয়াজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলার ঘটনায় ট্রাইব্যুনালে হাজির হন তিনি।
গত ৩১ জানুয়ারি ময়মনসিংহের এসপিকে ১৬ ফেব্রুয়ারি হাজির হয়ে এবং আইজিপিকে লিখিতভাবে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
গত ১২ জানুয়ারি পলাতক অবস্থায় মারা যাওয়ার পরও যুদ্ধাপরাধ মামলায় ময়মনসিংহের ওয়াজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা চলার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে ট্রাইব্যুনাল। এর পেছনে কার গাফিলতি রয়েছে, তা তদন্ত করতে ওইদিনই প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষকে মৌখিক নির্দেশনা দেয় হয়। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনাল অসন্তোষ প্রকশ করে। ১১ জানুয়ারি ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) কার্যালয় থেকে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে একটি চিঠি পাঠায় সেখানে বলা হয়, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার বাসিন্দা ওয়াজউদ্দিন ২০১৬ সালের ৭ মে মারা গেছেন। গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি ভাড়া বাড়িতে তার মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ট্রাইব্যুনালকে আসামির মৃত্যুর বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
গত ১১ ডিসেম্বর ওই মামলায় ওয়াজউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু আদেশ দেয়। ময়মনসিংহের পুলিশ সুপারের পাঠানো চিঠি সম্পর্কে ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করা হলে ট্রাইব্যুনাল অসন্তোষ প্রকাশ করে।
জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমজাদ আলী, রিয়াজউদ্দিন ফকির ও ওয়াজউদ্দিন হত্যা-গণহত্যা, ধর্ষণসহ নানা মানবতাবিরোধী অপরাধে নেতৃত্ব দেয়। তাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাসহ বহু মানুষকে হত্যা ও পাটিরায় ৩ হিন্দু নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ, ২০১৫ সালের ২৯ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। একই বছরের ১৬ জুন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় আসামি পলাতক রয়েছে। তার ৯ দিন পর আত্মসমর্পণ করে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। সরকারিভাবে আইনজীবীও নিয়োগ দেয়া হয়।
প্রসঙ্গত: ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট রিয়াজউদ্দিন ফকির ও হাজী আমজাদ আলী গ্রেপ্তারের পর ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় আনার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে একই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আমজাদ আলী। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিলের সময় তাকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়। সর্বশেষ ১১ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।