পুরান ঢাকায় দরজি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।
রোববার বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় বিষয়টি শুনানির জন্য রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সাব্বির ফয়েজ বলেন, মামলাটি কার্যতালিকায় ২০ নম্বরে রয়েছে, ডেথরেফান্সের শুনানির সঙ্গে এ মামলায় আসামিদের করা আপিলও গ্রহণ করে বেঞ্চ নির্ধারণ করেছেন প্রধানবিচারপতি।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিল শুনানির জন্য পেপারবুক প্রস্তুত হয়।
উল্লেখ, ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে খুন হন দর্জি দোকানী বিশ্বজিৎ।
২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় রায় ঘোষণা করেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ে ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত।
এরপর রাষ্ট্রপক্ষ রায় কার্যকরে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স আবেদন করে—এদিকে, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষও আপিল করেছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রফিকুল ইসলাম শাকিল, মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক এমদাদ, জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন, সাইফুল ইসলাম, কাইয়ুম মিঞা টিপু, রাজন তালুকদার ও মীর মো. নুরে আলম লিমন।
এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলো: এএইচএম কিবরিয়া, ইউনুস আলী, তারিক বিন জোহর তমাল, গোলাম মোস্তফা, আলাউদ্দিন, ওবায়দুর কাদের তাহসিন, ইমরান হোসেন, আজিজুর রহমান, আল-আমিন, রফিকুল ইসলাম, মনিরুল হক পাভেল, মোশাররফ হোসেন ও কামরুল হাসান। রায়ে এই আসামিদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দেয়া হয়। সাজাপ্রাপ্ত এ ২১ আসামির মধ্যে ৮ জন কারাগারে এবং বাকিরা পলাতক রয়েছে।