শাহজাদপুরে দৈনিক সমকালের সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যাকাণ্ডের মামলার আসামি আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মেয়র হালিমুল হক মিরু ও তার ভাই হাসিবুল হক মিন্টুর দ্বিতীয় দফা রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালে সিরাজগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জেষ্ঠ্য বিচারকি হাকিম ও শাহজাদপুর আমলী আদালতের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বিচারক নজরুল ইসলাম ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড মঞ্জুরের পর আদালত থেকে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাদপুর থানার ইন্সপেক্টর মনিরুল ইসলাম বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মেয়র মিরু ও তার ভাই মিন্টু’র বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে সিরাজগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক শুনানী শেষে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
এর আগে একই মামলায় প্রথম দফায় তাদের ৫ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
আর রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি আবুল কাশেম বলেন, শাহজাদপুর উপজেলা আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুল হক সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ঢাকায় গেছেন। এ কারণে সিরাজগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের আদালতে হালিমুল হক মিরু ও তার ভাই হাসিবুল হক মিন্টুর রিমান্ড শুনানি হয়। এ জন্য কারাগার থেকে তাদের শাহজাদপুর আদালতের পরিবর্তে সিরাজগঞ্জ আদালতে নেয়া হবে।
গত ২ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগ নেতা বিজয় মাহমুদকে মেয়র মিরু’র পিন্টু মেয়রের বাড়িতে তুলে নিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দেয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও বিজয়ের স্বজনরা মেয়রের বাসার সামনে মিছিল নিয়ে গিয়ে ইটপাটকেল ছোঁড়ে। এসময় মেয়র মিরু ও তার ভাই মিন্টু শটগান দিয়ে গুলি ছুঁড়তে থাকে।
একপর্যায়ে কার্তূজের একটি লেট বল কর্তব্যরত সমকাল সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুলের চোখের ভিতর দিয়ে মাথায় ভিতরে প্রবেশ করায় গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে বগুড়া ও পরের দিন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়ার পথে সে মারা যায়। এ ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সারাদেশের গণমাধ্যম কর্মীরা।
সাংবাদিক শিমুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম বাদী হয়ে পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুকে প্রধান আসামী করে ১৮জন নামীয়সহ অজ্ঞাত আরো ২০/২৫ নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় বিজয় মাহমুদের চাচা এরশাদ আলীও প্রায় একই আসামীদের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন।
এ ২টি মামলায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ১২ জনকে আটক করেছে। সবাই জেলা কারাগারে রয়েছে। এদিকে ১৩ই ফেব্রুয়ারি ৫ দিনের জন্য প্রথম রিমান্ড মঞ্জুর হয়।