গ্যাসের দাম দ্বিতীয় দফা বৃদ্ধিতে সরকারের সিদ্ধান্ত ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। মঙ্গলবার এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দিয়েছে আদালত।
এদিকে, গ্যাসের দাম বাড়ানোর যেকোনো বিজ্ঞতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না –তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
গত শুক্রবার সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, যৌক্তিক কারণেই গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভর্তুকী কমানো আর এলপিজি গ্যাসের সঙ্গে সমতা অর্জনের জন্যই পাইপ লাইনে গ্যাসের দাম বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বর্ধিত দাম জনগণের সামর্থের মধ্যেই থাকবে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, শিল্পখাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
এ সময় বিদ্যুতের দাম বাড়বে বলেও আভাস দেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।
আর সিলেটে গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, গ্যাসের দাম সস্তা তাই বাড়ানো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় বলা হয়, গ্যাসের দাম গ্রাহকপর্যায়ে আগামী ১ মার্চ ও ১ জুন থেকে দুই ধাপে কার্যকর হবে।
প্রথম দফায় এক চুলা ৭৫০ টাকা, দুই চুলা ৮০০ টাকা, সিএনজি প্রতি ঘনমিটার ৩৮ টাকা; দ্বিতীয় দফা এক চুলা ৯০০ টাকা, দুই চুলা ৯৫০ টাকা ও সিএনজি প্রতি ঘনমিটার ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে; সব ধরণের গ্যাসের দাম বাড়লো ২২.৭%।
শুনানি শেষে বিইআরসি আবাসিক খাতে দুই চুলার জন্য এক হাজার টাকা এবং এক চুলার জন্য ৮০০ টাকা প্রস্তাব করা হয়।
উল্লেখ্য, বর্তমানে আবাসিকে দুই চুলার জন্য ৬৫০ টাকা ও এক চুলার জন্য ৬০০ টাকা দিতে হয়। ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর এ দাম কার্যকর করে বিইআরসি। আগে দুই চুলার জন্য ৪৫০ টাকা ও এক চুলার জন্য ৪০০ টাকা নির্ধারিত ছিল। দাম বৃদ্ধির জন্য পেট্রোবাংলার প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি হয়।