বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাইকো দুর্নীতি মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার দুপুরে বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছে।
বিগত ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে অভিযোগ গঠনের শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রসঙ্গত: ২০১৫ সালে নাইকো মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদার করা রিটের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ১৮ জুন হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেয়। এরপর ওইবছরের ৭ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টে লিভ টু আপিল করেন খালেদা জিয়া। পরে সেই লিভ টু আপিলও খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ।
এদিকে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টসংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার একটি অংশ পুনরায় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন খালেদা জিয়া।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি শহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আগামীকাল-বুধবার বিষয়টি শুনানির জন্য আদালতের কার্যতালিকায় আসবে।
গত ২ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টসংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার একটি অংশ পুনরায় তদন্ত চেয়ে চেয়ারপারসনের করা আবেদন বিচারিক আদালতে নামঞ্জুর হয়। বিচারিক আদালতের ওই আদেশের বিরুদ্ধে ১ মার্চ হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন তিনি।
হাইকোর্টে আবেদনটি উপস্থাপন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী আবদুর রেজাক খান।
আবেদনে মামলার একটি অংশ পুনরায় তদন্তের আবেদন খারিজের আদেশ কেন বাতিল হবে না এবং মামলার সংশ্লিষ্ট অংশ পুনরায় তদন্ত করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। রুল হলে তা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বিচারিক মামলার কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জানিয়েছে, অর্থ সৌদি আরব থেকে এসেছে। বিবাদীপক্ষ বলছে, অর্থ কুয়েতের আমির দিয়েছেন। মামলার এ অংশ পুনরায় তদন্ত চাওয়া হয়েছেয় বিচারিক আদালতে ৯ মার্চ সাক্ষী জেরার দিন ঠিক রয়েছে।
ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টসংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার বিচারকাজ চলছে। একই আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টসংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার বিচারকাজও চলছে।