জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অধিকতর তদন্ত চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
‘ফান্ডটিতে টাকা সৌদি আরব— না কুয়েত থেকে এসেছে’ সেই অংশটুকুর পুনঃতদন্ত চেয়ে এ আবেদন করেছিলেন বিএনপি নেত্রী তবে সেটা খারিজ হয়ে যাওয়ায় বিচারিক আদালতে এ মামলার শুনানি চলতে আর কোনো বাধা নেই।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান। সঙ্গে ছিলেন জাকির হোসেন ভূঁইয়া। মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
এদিকে, রাজধানীর বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তর প্যারেড মাঠে ঢাকার-৩ নম্বর বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের আদালতে মামলাটির বিচারকাজ চলছিল। তবে মামলাটিতে বুধবার বিচারক পরিবর্তন করে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ।
উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন এটা পাঠাতে হবে ঢাকা মহানগর বিশেষ সিনিয়র জজ আদালতে। সেই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলাটি ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
খালেদা জিয়ার জাকির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ টাকা এসেছে সৌদি আরব থেকে। প্রকৃতপক্ষে এ অর্থ এসেছে কুয়েত থেকে। কুয়েতের আমির অরফানেজ ট্রাস্টের জন্য টাকাটা দিয়েছেন। যেই টাকা লাভসহ প্রায় পৌনে ছয় কোটি এখনও ট্রাস্ট ফান্ডে জমা রয়েছে।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী বলেন, টাকা কোথা থেকে এসেছে তার তদন্ত করার জন্য বিচারিক আদালতে আমরা আবেদন করেছিলাম। তবে সেই আবেদন গত ২ ফেব্রুয়ারি খারিজ করে দিয়েছে। যার বিরুদ্ধে আমরা হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেছিলাম।
আর মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুদক। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এ মামলা করা হয়।
খালেদা ছাড়াও এ মামলার অপর আসামিরা হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক সাংসদ ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের বোনের ছেলে মমিনুর রহমান।