বিভিন্ন উপহার সামগ্রী রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে করা দুর্নীতির মামলায় সাজার বিরুদ্ধে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের করা আপিলের শুনানি শেষ হয়।
আগামী ২৩ মার্চ রায়ের দিন ঠিক করেছে হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুসের একক বেঞ্চ এ দিন ঠিক করেছেন।
আদালতে এরশাদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলাম আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নজিবুর রহমান।
মামলার বিবরণ:
আদালত সূত্র জানা গেছে, সাবেক এ রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ১৯৯১ সালের ৮ জানুয়ারি তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর উপ-পরিচালক রাজধানীর সেনানিবাস থানায় দুর্নীতির একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি থাকাকালে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করে। যা মূল্য এক কোটি ৯০ লাখ ৮১ হাজার ৫৬৫ টাকা। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এনে মামলাটি করা হয়।
ওই মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ১৯৯২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি এরশাদকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে একই বছর এরশাদ হাইকোর্টে আপিল করলে দণ্ড স্থগিত হয়ে যায়। পরে ২০১২ সালের ২৬ জুন দুর্নীতি দমন কমিশন এ মামলায় পক্ষভুক্ত হয়।
গত বছরের ২২ আগস্ট আপিলটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের আবেদন করে দুদক।
উল্লেখ, ১৯৯০ সালে গণআন্দোলনের মুখে এরশাদ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় তিন ডজন মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় তার সাজার আদেশ হয় এবং একটিতে তিনি সাজা খেটেছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে এরশাদ নির্বাচন কমিশনে যে হলফনামা দেন, তাতে তখনও আটটি মামলা বিচারাধীন ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। বাকি মামলাগুলো থেকে তিনি খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন, অথবা মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। এই আট মামলার মধ্যে চারটির কার্যক্রম উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত রয়েছে। মঞ্জুর হত্যাসহ তিনটি মামলা বর্তমানে চালু রয়েছে।