রাজধানীর হাজারীবাগে ১৫৪ ট্যানারি অবিলম্বে বন্ধে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
রোববার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছে।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ট্যানারি মালিকদের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
এর আগে পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা সম্পূরক এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট গত ৬ মার্চ হাজারীবাগের সব ট্যানারি বন্ধের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে কারখানাগুলোর গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করারও নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। হাজারীবাগে ১৫৪টি ছোট-বড় ট্যানারি রয়েছে।
উল্লেখ, ২০০৯ সালের ২৩ জুন এসব ট্যানারিকে এক বছরের মধ্যে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
এরপর সময়ের পর সময় দেয়া হলেও অধিকাংশ কারখানা এখনো বন্ধ হয়নি এ কারণে পরিবেশের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ট্যানারিগুলোকে প্রতিদিনের জন্য জরিমানাও করে হাইকোর্ট।
এরই মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় আদালতের অনুমতি ছাড়া হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তরের সময়সীমা ২০১৭ সালের মার্চ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।
গত ৩ জানুয়ারি এর আইনগত বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বেলা একটি রিট দায়ের করে। ওই রিট নিষ্পত্তি করে গত ৬ মার্চ হাজারীবাগের সব ট্যানারি বন্ধের আদেশ দেয় হাইকোর্ট।
গত সোমবার বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. সেলিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে আবেদনের শুনানি শেষে সব ট্যানারি অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির-বেলার করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেয়। এতে অবিলম্বে ট্যানারিগুলো থেকে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আদালতে বেলার পক্ষে শুনানি করেন ফিদা এম কামাল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও মিনহাজুল হক চৌধুরী।