এবার ঘুষ গ্রহণের মামলায় নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। বুধবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর শ্যামল কান্তি আদালতে হাজির করে জামিনের আবেদন করলে আদালত না নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ওই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার দায়ের করা মামলায় আজ এই আদেশ দেয় জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
শ্যামল কান্তি বলছেন, প্রভাবশালী এক ব্যক্তির কারণে মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে তাকে।
ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে কান ধরে উঠ-বস করানোর ঘটনায় আলোচনায় আসেন নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত। এবার তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বুধবার নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অশোক কুমার দত্ত এ আদেশ দেন।
পরে শ্যামল কান্তি আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠায়।
মামলার বাদী, ওই বিদ্যালয়ের ইংরেজীর শিক্ষিকা মোর্শেদা বেগমের অভিযোগ, চাকরি এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার কথা বলে শ্যামল কান্তি তার কাছ থেকে এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। কিন্তু তার চাকরি এমপিওভুক্ত হয়নি, শ্যামল কান্তি টাকাও ফেরত দেননি।
আদালতের ওই আদেশের আগে শ্যামল কান্তি ভক্ত বলেন, হেয় প্রতিপন্ন করতেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে এ মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে গত বছর ১৩ মে পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে কানধরে উঠ-বস করানো হয়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে সারাদেশে ওঠে সমালোচনার ঝড়।
পরে ১৪ জুলাই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, শিক্ষার্থীকে মারধর ও শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে তিনটি মামলার আবেদন করা হয় হয়। আদালত সেদিনই প্রথম দুটি অভিযোগ খারিজ করে দেন।
তৃতীয় অভিযোগের বিষয়ে বন্দর থানা পুলিশকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। সবশেষ এই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলো।