নারায়ণগঞ্জে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের মামলাটি আমলি আদালত থেকে বিচারিক আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম (আমলি) আফতাব উদ্দিন এ আদেশ দিয়েছেন।
শ্যামল কান্তির আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ শিক্ষককের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে আছেন তিনি। আমলি আদালত মামলাটি বিচারের জন্য বিচারিক আদালতে পাঠিয়েছে।
এক শিক্ষিকাকে এমপিওভুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের আমলি আদালতে মামলা করা হয়।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন বন্দরের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক মোর্শেদা বেগম। গত ২৪ মে ওই মামলায় পুলিশ তদন্ত শেষে শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। গত ৩১ মে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে কারামুক্তি পান শ্যামল কান্তি।
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে শ্যামল কান্তি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তাকে স্কুল থেকে তাড়ানোর চেষ্টা চলছে। স্থানীয় সাংসদ সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
গত বছর ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ এনে নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শ্যামল কান্তিকে সেলিম ওসমানের নির্দেশে শারীরিক নির্যাতন ও কান ধরে ওঠ-বস করানোর ঘটনা ঘটে। এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে সারা দেশে তোলপাড় হয়।