শিশু গৃহকর্মী আদুরী নির্যাতনের মামলায় প্রধান আসামি নওরীন জাহানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত একই সঙ্গে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার দ্বিতীয় আসামি ইশরাত জাহানকে আদালত খালাস দিয়েছে তিনি আসামি নওরীনের মা। নওরীন কারাগারে আছে।
রায় ঘোষণার পর আদুরীর মা সাফিয়া বেগম বলেন, বিচারে তারা খুশি।
বাদীপক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী বলেন, এ রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আদালতে জবানবন্দিতে আদুরি বলে, গৃহকর্ত্রী নদী তাকে দিনে একবেলা মুড়ি খেতে দিত। বাসার ব্যালকনিতে থাকতে দিত। মাঝেমধ্যে লবণ দিয়ে ভাত দিত। প্রায়ই গরম ইস্ত্রি দিয়ে ছেঁকা দিত শরীরের বিভিন্ন স্থানে। আদুরি বর্তমানে জৈনকাঠি ছালিয়া দাখিল মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে।
আদুরি পটুয়াখালী সদর উপজেলার জৈনকাঠির কৌরাখালি গ্রামের প্রয়াত খালেক মৃধার কনিষ্ঠ কন্যা। অভাবের সংসারে মা সাফিয়া বেগম নয় সন্তানকেই গৃহপরিচারিকার কাজে দেন। আদুরিকে এক প্রতিবেশীর সহযোগিতায় রাজধানীর পল্লবীতে নওরীন জাহান নদীর বাসায় কাজে দেয়া হয়েছিল। সেখানে নানা অজুহাতে দিনের পর দিন অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয় আদুরি। নির্যাতনের একপর্যায়ে নদী ও তার মা মৃত ভেবে আদুরিকে ডাস্টবিনে ফেলে দেন। সেখান থেকে দুই নারী কর্মী অর্ধমৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন আদুরিকে। পরে পুলিশের সহায়তায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে ভর্তি করা হয়। দেড় মাস চিকিৎসার পর সুস্থ হলে পরিবারের কাছে আদুরিকে হস্তান্তর করা হয়।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্লবীর একটি ডাস্টবিন থেকে অর্ধমৃত অবস্থায় আদুরিকে (১১) উদ্ধার করা হয়। চার বছরের ব্যবধানে আদুরির শারীরিক কাঠামো পরিবর্তন হলেও নির্যাতনের ক্ষতচিহ্নগুলো এখনও রয়ে গেছে।
এ ঘটনায় তার মামা নজরুল ইসলাম ২৬ সেপ্টেম্বর বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ওই বছরের ২৯ অক্টোবর দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। পরের বছর ২০১৪ সালের ৬ জুন আদালত দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন।