বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী তারিক সালমনের বিরুদ্ধে করা মানহানির মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
রোববার বাদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ওবায়েদ উল্লাহ সাজু মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন।
সকালে শুনানি শেষে বরিশালের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম অমিত কুমার দে আবেদনটি মঞ্জুর করে মামলা খারিজের আদেশ দেন।
এদিকে, ওই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নাজেহালের দিন বরিশালের আদালতে দায়িত্বরত পুলিশের ছয় সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তারা হলেন: এসআই নিরিপেন দাশ, এটিএসআই শচীন ও মাহবুব এবং কনস্টেবল জাহাঙ্গীর, হানিফ ও সুখেন।
বরিশাল মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সহকারী কমিশনার নাসিরুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, শনিবার রাতে প্রশাসনিক কারণে তাদের আদালত থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত: পঞ্চম শ্রেণির এক শিশুর আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি দিয়ে স্বাধীনতা দিবসের আমন্ত্রণপত্র ছাপানোয় আগৈলঝাড়ার সাবেক ইউএনও গাজী তারিক সালমনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ওবায়েদ উল্লাহ সাজু।
গত বুধবার বঙ্গবন্ধুর ‘বিকৃত’ ছবি আমন্ত্রণপত্রে ব্যবহারের অভিযোগের ওই মামলায় বরিশাল মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন, পরে তা নাকচ করে তাকে হাজতে পাঠায়, দুই ঘণ্টা পর আবার জামিন দেন একই বিচারক।
আদালত প্রাঙ্গনে বর্তমানে বরগুনা সদরের ইউএনও তারিককে পুলিশ ধরে নেয়ার ছবি প্রকাশ হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে বিবৃতি দেয় সরকারি কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।
বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃত করে কার্ড ছাপানোর অভিযোগে একজন ইউএনও গ্রেপ্তারের ঘটনায় খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিস্মিত হন।
এ ঘটনায় সারাদেশে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে মামলার বাদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ওবায়েদ উল্লাহ সাজুকে দল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।