বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় উচ্চ আদালতে রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদারের ফাঁসি বহাল রাখা হয়েছে আর বাকি আসামিদের মধ্যে ৪ জনের যাবজ্জীবন এবং ৪ জন খালাস পেয়েছে। রোববার বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।
খালাসপ্রাপ্ত ৪ জন হলেন: সাইফুল ইসলাম, কাইয়ুম মিঞা টিপু, এ এইচ এম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফা।
এর আগে সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাটির রায় পড়া শুরু করেন বিচারপতি মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চ। পরে দুপুর ১টায় বিরতি দিয়ে দুপুর ২টার পর আবারো রায় পড়া শুরু করেছে আদালত।
গত ১৭ জুলাই বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ঠিক করে।
এ মামলায় ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর রায় দেয় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪। ২১ আসামির মধ্যে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২ জন ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১১ জন পলাতক রয়েছে। বাকি আট জন কারাগারে। আসামিদের সবাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মী ছিল।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া ব্যক্তিরা হলো: রফিকুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান, রাশেদুজ্জামান, ইমদাদুল হক, কাইয়ুম মিয়া, সাইফুল ইসলাম, রাজন তালুকদার (পলাতক) ও নূরে আলম (পলাতক)।
যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশ পাওয়া ব্যক্তিরা হলো: এইচ এম কিবরিয়া, গোলাম মোস্তফা, খন্দকার ইউনুস আলী, মনিরুল হক, তারিক বিন জোহর, আলাউদ্দিন, ওবায়দুল কাদের, ইমরান হোসেন, আজিজুর রহমান, আল আমিন শেখ, রফিকুল ইসলাম (২), কামরুল হাসান ও মোশাররফ হোসেন। তাদের মধ্যে কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফা ছাড়া বাকিরা পলাতক।
বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।
উল্লেখ, ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর সকালে পথচারী বিশ্বজিৎ দাসকে বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।