বগুড়ায় কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ ও মা-মেয়ে নির্যাতনের ২টি মামলায় শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকার ও মার্জিয়া আক্তার রুমকিকে আদালতের নির্দেশে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বলেন, দুই দিনের রিমান্ড শেষে রোববার বেলা ৩টার দিকে তুফান ও রুমকিকে বগুড়ার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম শ্যামসুন্দর রায়ের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত আবেদন না মঞ্জুর করে তাদের জেল পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
এর আগে তুফানকে তিন দফায় সাত দিন ও রুমকিকে দুই দফায় ছয় দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে তুফান কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং কাউন্সিলর মার্জিয়া মা-মেয়েকে নির্যাতন ও চুল কেটে দেয়ার কথা স্বীকার করেননি।
গত শুক্রবার বগুড়ার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহা. আহসান হাবিবের আদালত তুফান ও রুমকির দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই দিন একই আদালতে তুফান সরকারের সহযোগী মুন্না ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার আগে আদালতে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তি দেন তুফানের আরেক সহযোগী আতিক এবং নাপিত জীবন রবিদাস।
গত ১৭ জুলাই বিকেলে ওই ছাত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন বগুড়ার শহর শ্রমিক লীগের নেতা তুফান সরকার। পরে তুফান সরকারের স্ত্রী আশা সরকার এবং তার বড় বোন নারী কাউন্সিলর এবং তুফানের ক্যাডারেরা ধর্ষণের শিকার মেয়েটি ও মায়ের ওপর নির্যাতন চালান। এরপর দুজনেরই মাথা ন্যাড়া করে দেন। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর মা বাদী হয়ে ২৮ জুলাই রাতে মামলা করেন। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত নয় জনসহ মোট ১১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।