চলন্ত বাসে টাঙ্গাইলের মধুপুরে বহুজাতিক কোম্পানির কর্মী রূপা খাতুনকে-২৫ ধর্ষণ ও হত্যা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বিচারকাজ শুরু করেছে আদালত।
আগামী ১৩ নভেম্বর অভিযোগ গঠনবিষয়ক শুনানির দিন ঠিক করা হয়েছে।
বুধবার টাঙ্গাইলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুল মান্নান শুনানি শেষে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে একই সঙ্গে সব আসামির জামিন নামঞ্জুর করেছেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এ কে এম নাছিমুল আক্তার জানান, গত ১৫ অক্টোবর পুলিশ বিচারিক হাকিম আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র জমার পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
বিচারিক হাকিম আদালতে মামলাটির ধার্য তারিখ ছিল ১৩ নভেম্বর তবে রূপা ধর্ষণ ও হত্যা মামলাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক আব্দুল মান্নান শুনানি শেষে তারিখ এগিয়ে এনে ২৫ অক্টোবর অভিযোগপত্র গ্রহণের নতুন দিন দেন।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আসানবাড়ি গ্রামের জেলহাজ প্রামাণিকের মেয়ে। একটি বহুজাতিক কোম্পানির কর্মী ছিলেন তিনি।
গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহে যাওয়ার পথে চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার হন তিনি। পরে তাকে হত্যা করে মরদেহ মধুপুর বন এলাকায় ফেলে যায় বাসের চালকসহ শ্রমিকেরা। পুলিশ রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে আঘাতের চিহ্ন থাকায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা করে।
রূপার ভাই ২৮ আগস্ট মধুপুর থানায় গিয়ে মরদেহের ছবি দেখে বোনকে শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫), সুপারভাইজার সফর আলী (৫৫) এবং সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯) গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের কাছে তারা রূপাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে।
২৯ আগস্ট বাসের তিন সহকারী শামীম, আকরাম, জাহাঙ্গীর এবং ৩০ আগস্ট চালক হাবিবুর ও সুপারভাইজার সফর আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। বর্তমানে তারা টাঙ্গাইল কারাগারে আছে।
গত ৩১ আগস্ট রূপার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে তার ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাকে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নিজ গ্রাম আসানবাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়।