অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ বিধিমালার গেজেট প্রকাশে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
রোববার দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ওই গেজেট প্রকাশে রাষ্ট্রপক্ষ আবারো সময় চেয়ে আবেদন করেছে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারকের বেঞ্চ তা মঞ্জুর করে নতুন দিন ঠিক করে দেয়।
আদালতে সময় আবেদন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
এর আগে গেজেট প্রকাশ করতে সরকারকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেয় আপিল বিভাগ।
প্রায় দেড় বছর ধরে অধস্তন আদালতে চাকরিবিধি-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ নিয়ে সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে টানাপড়েন চলছে। এর মধ্যে কয়েকবার সময় দেয়ার পরও সরকার গেজেট প্রকাশ না করায় গত বছরের ৮ ডিসেম্বর দুই সচিবকে তলবও করে আপিল বিভাগ।
তারই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি গেজেট প্রকাশের প্রয়োজন নেই বলেও সিদ্ধান্ত দেন তবে ওইসময় সর্বোচ্চ আদালত পক্ষ থেকে বলা হয়, রাষ্ট্রপতিকে ভুল বোঝানো হয়েছে গেজেট প্রকাশ করতেই হবে।
এ টানাপোড়েনের মধ্যেই আইনমন্ত্রী আনিসুল হক অধস্তন বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালার গেজেটের খসড়া সুপ্রিম কোর্টে জমা দিলেও তা গ্রহণ না করে কয়েকটি শব্দ ও বিধি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি।
মামলার বিবরণ:
গত ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করা সংক্রান্ত মাসদার হোসেন বনাম সরকার মামলার যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আপিল বিভাগ বিসিএস (বিচার) ক্যাডারকে সংবিধান পরিপন্থী ও বাতিল ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে জুডিসিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস ঘোষণা করে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার জন্য সরকারকে ১২ দফা নির্দেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। তবে আপিল বিভাগের রায়ের আলোকে অধস্তন আদালতের জন্য পৃথক শৃঙ্খলা ও আচরণ বিধিমালা এখনও প্রণীত হয়নি। এ নিয়েই সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে টানাপড়েন চলছে।