গৃহকর্মীকে ঠকানো ও ভিসা জালিয়াতির অভিযোগ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত অব্যাহতি দিয়েছে জাতিসংঘের বাংলাদেশি কর্মকর্তা হামিদুর রশীদ।
গত ২০ জুন বিদেশি কর্মী নিয়োগের চুক্তিতে জালিয়াতি এবং ভিসা ও পরিচয় জালিয়াতির অভিযোগে হামিদুরকে তার নিউইইয়র্কের ম্যানহাটনের বাসা থেকে গ্রেপ্তারও করে যুক্তরাষ্ট্র পুলিশ।
গ্রেপ্তারের সাত ঘণ্টা পর একইদিন বিকালে শর্ত সাপেক্ষে জামিন পান জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপির ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসি অ্যানালাইসিস ইউনিটের প্রধান এ বাংলাদেশি।
ওই ঘটনার পাঁছ মাস পর নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত ফেডারেল কোর্টের একটি আদালত অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে মামলাটি খারিজ করে দেয়।
সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পর গত ২০ নভেম্বর ওই ফেডারেল কোর্টের বিচারপতি অ্যান্ড্রু জে প্যাক কূটনীতিক হামিদুর রশীদকে অব্যাহতি দিলেও বিষয়টি এক মাস পর তা গণমাধ্যমের সামনে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অফিসের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা জেমস এম মারগলিন স্থানীয় সময় মঙ্গলবার হামিদুর রশীদকে খালাসের তথ্য নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ, ২০১৩ সালের শুরুতে হামিদুরের বাসায় কাজ শুরু করলেও চুক্তি অনুযায়ী পারিশ্রামিক পাননি বলে ওই বছরই তার বাসা ছেড়ে যান বাংলাদেশি ওই গৃহকর্মী।
অভিযোগে বলা হয়, সপ্তাহে ৪২০ ডলার মজুরিতে নিয়োগের চুক্তি করে গৃহকর্মীর ভিসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে চুক্তিপত্র দাখিল করেন হামিদুর। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে গৃহকর্মী যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালে তিনি নতুন একটি চুক্তিতে তার সই নেন, যেখানে সাপ্তাহিক মজুরি ২৯০ ডলার লেখা হয়।
হামিদুর রশীদ ওই গৃহকর্মীর পাসপোর্ট নিয়ে নেন এবং অন্য কোথাও কাজ করলে তাকে প্রথমে কারাগারে ও পরে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে বিভিন্ন সময় হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
হামিদুর প্রথম দিকে ওই গৃহকর্মীর হাতে কোনো টাকা দেননি অভিযোগ করে মামলায় বলা হয়, ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত কাজের জন্য বাংলাদেশে তার স্বামীকে মাসে ৬০০ ডলারের সমপরিমাণ টাকা পাঠাতেন। ওই বছর অক্টোবরে সরাসরি তার হাতে ৬০০ ডলার দেন।
ইউএনডিপির এই বাংলাদেশি কর্মকর্তা কখনোই তার গৃহকর্মী বা তার স্বামীকে মূল চুক্তি অনুযায়ী সপ্তাহে ৪২০ ডলার দেননি বলে অভিযোগে বলা হয়।
মামলায় বলা হয়, গৃহকর্মীকে যথাযথ বেতন দেয়া হচ্ছে দেখাতে তার নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হলেও তা আসলে হামিদ ও তার স্ত্রী নিয়ন্ত্রণ করতেন।
ওই গৃহকর্মী ২০১৩ সালে হামিদের বাসা থেকে চলে যান এবং আর ফেরেননি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ার চার বছর পর কেন মামলা করা হল আদালতে সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে হামিদুরের পক্ষ থেকে চুক্তি অনুযায়ী পারিশ্রমিক দেয়ার প্রমাণপত্রও দেখানো হয়। এতে সন্তুষ্ঠ হয়ে বিচারক মামলাটি খারিজ করে দেন।
মামলায় হামিদুর রশীদকে গ্রেপ্তারের খবরটি যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সব সংবাদ মাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশ করা হয়েছিল।
এ অবস্থায় এমন অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া বাংলাদেশি কূটনীতিকদের জন্য এক ধরনের বিজয় বলে মনে করছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।
তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই খুশি যে, সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মত শক্তিশালী একটি আদালতের কাঠগড়া থেকে সসম্মানে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।