জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিনের বিরুদ্ধে আপিলের (লিভ টু আপিল) শুনানি শেষ হয়েছে।
আগামীকাল- সোমবার এ বিষয়ে আদেশের জন্য দিন ঠিক করেছে আদালত।
রোববার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দিয়েছে আদালত।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
অপরদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও খন্দকার মাহবুব হোসেন।
সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে আপিল বিভাগে খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের শুনানি শুরু হয়ে মাঝে আধা ঘণ্টার বিরতি দিয়ে শুনানি শেষ হয় বেলা ১২টায়।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। ওইদিনই তাকে কারাগারে নেয়া হয়। এ মামলায় খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ ছাড়া রায়ে আসামিদের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা জরিমানাও করা হয়।
পরে নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে আবেদন করলে হাইকোর্ট গত ২২ ফেব্রুয়ারি আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে এবং জরিমানা স্থগিত করেছে।
এরপর খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে জামিন আবেদন করা হলে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের মামলার যাবতীয় নথি তলব করেন। আদেশে ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে নথি পাঠাতে বলা হয়। সে অনুযায়ী গত ১১ মার্চ দুপুরে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ আদালত থেকে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
১২ মার্চ হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয়। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিন স্থগিত চেয়ে পরদিন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে যায়। বিচারক কোনো আদেশ না দিয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়। ১৪ মার্চ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগ রোববার পর্যন্ত হাইকোর্টের জামিন স্থগিত করে। একই সঙ্গে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের অনুমতি লিভ টু আপিলের নির্দেশ দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৃথকভাবে লিভ টু আপিল দাখিল করা হয়।
উল্লেখ, ২০০৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসনসহ কয়েকজনকে আসামি করে দুদক জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা করে।