ধর্ষণের শিকার হওয়া নারী মেয়ে শিশুদের শারীরিক পরীক্ষা ‘টু ফিঙ্গার টেস্ট’ নিষিদ্ধ করেছে হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি এ কে এম সহিদুল হক এ রায় দেন।
আদালত জানিয়েছে, ধর্ষণের শিকার নারী ও শিশুর শারীরিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে এই ‘টু ফিঙ্গার টেস্টের কোনো বিজ্ঞানসম্মত কোনো ভিত্তি নেই।
রায়ে আদালত জানিয়েছে, ধর্ষণ মামলার বিচার চলাকালে আইনজীবীরা নারীর প্রতি অমর্যাদাকর কোনো প্রশ্ন করতে পারবেন না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্য বিধি অনুযায়ী, গত বছর বাংলাদেশ সরকার যে হেলথ প্রটোকল করেছে, সেই বিধি মেনে রেপ ভিকটিমদের পরীক্ষা ও ভার্জিনিট টেস্ট করতে হবে। এছাড়া, ধর্ষণের শিকার নারীর পরীক্ষার সময় নারী চিকিৎসক, নারী পুলিশ সদস্য, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও নারী নার্সের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
এ নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট আইনজীবী, চিকিৎসক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, প্রসিকিউটরকে কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও শারমিন আক্তার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এস এম নাজমুল হক।
উল্লেখ, ২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তথাকথিত ‘দুই আঙ্গুলি পরীক্ষা’ কেন আইনবহির্ভূত এবং অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা নিয়ে রুল দেয় হাইকোর্ট।
দুই আঙুলের মাধ্যমে ধর্ষণ পরীক্ষাপদ্ধতির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট—ব্লাস্ট, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ব্র্যাক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, নারীপক্ষসহ দুই চিকিৎসক এই রিট আবেদনটি করেন।
ফরেনসিক চিকিৎসক, আইনজীবী, পুলিশ, এনজিও প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পেশার বিশেষজ্ঞরা এত দিন ধরে বলে আসছেন, ধর্ষণের শিকার নারী ও শিশুর (ভিকটিম) শারীরিক পরীক্ষায় টু ফিঙ্গার টেস্ট বা দুই আঙ্গুলি পরীক্ষার বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই। এ ধরনের পরীক্ষা অযৌক্তিক এবং এভাবে পরীক্ষা ভিকটিমকে আবার ধর্ষণ করার শামিল। তাই এ পরীক্ষা বাতিল করতে হবে।