জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা আপিলের শুনানি বুধবার পঞ্চম দিনের মতো শুনানি হয়েছে।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি করেন।
সকালে খালেদার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান এ শুশানি শুরু করেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন। দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান উপস্থিত রয়েছেন।
গতকাল চতুর্থ দিন পযর্ন্ত আপিল আবেদনের পক্ষের আইনজীবীরা পেপারবুক (মামলার সব নথি) থেকে রাষ্ট্রপক্ষের তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্য, জেরা ও জবানবন্দি পড়ে শোনান। রাষ্ট্রপক্ষের ৩২ সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত চার সাক্ষীর সাক্ষ্য, জেরা ও জবানবন্দি তুলে ধরেন তারা। এ ছাড়া পেপারবুক থেকে ওই মামলার প্রথম অনুসন্ধান প্রতিবেদনও তুলে ধরেন।
গত ১২ জুলাই এ আপিল শুনানি শুরু হয়।
ওই দিন এ মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ ১৯ জুলাই পর্যন্ত বাড়ায় আদালত।
বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
খালেদার পক্ষে জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন মঞ্জুর করে একই সঙ্গে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত আপিল শুনানি মুলতবি করে আদালত।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্ট চার মাসের জামিন দেয় যা ওইদিন শেষ হয়।
এর আগে এ মামলায় সাজার রায়ের বিরুদ্ধে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা আপিল শুনানি এ মাসের মধ্যে শেষ না হলে সময়ের প্রার্থনা বিবেচনা করা হবে জানায় আদালত।
এ মামলায় খালেদা জিয়ার আপিল আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা সংক্রান্ত আপিল বিভাগের আদেশের বিরুদ্ধে করা রিভিউ আবেদন স্ট্যান্ড ওভার (মুলতবি) রেখেছে আপিল বিভাগ।
আদালত জানিয়েছে, এ মাসের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি শেষ না হলে এ মামলার আপিল শুনানির সময় বৃদ্ধির আবেদন জানানোর সুযোগ রয়েছে।
এর ফলে খালেদা জিয়ার আপিল নিষ্পত্তিতে সময় বৃদ্ধির পথ খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছে।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।
আপিল নিষ্পত্তিতে সময় চেয়ে খালেদা জিয়ার রিভিউ আবেদনে আদেশের জন্য দিন নির্ধারিত ছিল।
আপিল আদেশে বলা হয়েছে, রিভিউ আবেদনটি পর্যবেক্ষণসহ খারিজ করা হলো তবে সময় দরকার হলে পরে আসতে পারবে।
এসময় অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন আদালতে জানায়, আবেদনটি খারিজ করলে পরে কীভাবে আপিলে আসবো? মামলাটি খারিজ না করে ওপেন রাখুন।
তখন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে বলেন, গতকাল পেপারবুক নিয়েও তারা আপত্তি তুলেছেন। এই মামলার এমন কোনও অবস্থা নেই যে তারা (খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা) বিশৃঙ্খলা করেননি।
আদালত জানায়, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত রিভিউ আবেদনটি স্ট্যান্ড ওভার রাখা হলো। তবে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল নিষ্পত্তি না হলে পরে সময় বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এর আগে গত ৯ জুলাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা সংক্রান্ত আপিল বিভাগের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষ হয়। এরপর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ বিষয়ে রায়ের জন্য বৃহস্পতিবার রায়ের দিন নির্ধারণ করেন। কিন্তু রায় ঘোষণা না করে আদালত মামলাটি মুলতবি রাখে।
প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পর থেকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।