তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েস এ আদেশ দেন।
আদালতে শহিদুল আলমের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ও সারা হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন এই আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবদুল্লাহ আবু।
গতকাল শহিদুল আলমের জামিন আবেদন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতকে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
সোমবার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি খন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ জামিন আবেদন শুনতে বিব্রত বোধ করায় প্রধান বিচারপতি বিষয়টি শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চ ঠিক করে দেন।
বুধবার এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি বোরহান উদ্দিন ও মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে কারাগারে প্রথম শ্রেণির বন্দীর সুবিধা দেয়ার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
শহিদুল আলমকে কারাগারে প্রথম শ্রেণির বন্দীর মর্যাদা দিতে নির্দেশনা চেয়ে তার স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ রিটটি করেন।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সারা হোসেন তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।
আজ-সোমবার হাইকোর্টে শহিদুলের আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সারা হোসেন ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
পরে সারা হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আগামীকাল দায়রা জজ আদালতে জামিন শুনানির তারিখ আছে। হাইকোর্ট বলেছে, কালই যেন বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হয়।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গত ৫ আগস্ট রাতে পুলিশ দৃক গ্যালারি ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা শহিদুলকে গ্রেপ্তার করে।
পরে ‘উসকানিমূলক ও মিথ্যা’ অপপ্রচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে এ মামলা করে পুলিশ।
ঢাকার হাকিম আদালত শহিদুলের জামিন আবেদন নাকচ করে দিলে তার আইনজীবীরা ১৪ আগস্ট মহানগর দায়রা জজ আদালতে যান।
বিচারক আবেদনটি ১১ সেপ্টেম্বর শুনানির জন্য রাখলে তারা শুনানির তারিখ এগিয়ে আনার জন্য আরেকটি আবেদন করেন। বিচারক তা গ্রহণ না করলে ২৬ আগস্ট শহিদুলের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন চেয়ে ওই আদালতেই ফের আবেদন করা হয়।
আদালত তা শুনানির জন্য গ্রহণ না করায় গত ২৮ আগস্ট শহিদুলের জামিন আবেদন নিয়ে তার আইনজীবীরা হাইকোর্টে যান।