বহুল আলোচিত ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে বিএনপির সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক জিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বুধবার ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।
আওয়ামী লীগের সমাবেশে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার ৩১ আসামিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়।
তাদের মধ্যে লুৎফুজ্জামান বাবর ও আব্দুস সালাম পিন্টুও রয়েছেন।
বুধবার সকাল ৭টার দিকে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে বাড়তি নিরাপত্তা দিয়ে তাদের আনা হয়।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ১ ও ২ এর ভারপ্রাপ্ত জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা বলেন, কেন্দ্রীয় কারাগার ১ ও ২-এ থাকা ১৪ আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়।
কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারের জেল সুপার শাহজাহান আহমেদ বলেন, হাইসিকিউরিটিতে থাকা ১৭ জন আসামিকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
হাইসিকিউরিটি কারাগারে থাকা ১৭ আসামিই হুজি নেতা বলে জানান তিনি।
আর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ১ ও ২-এ থাকা আসামিদের মধ্যে বাবার ও পিন্টু ছাড়াও রয়েছেন হুজি নেতা আরিফ হাসান সুমন ও মওলানা আব্দুর রউফ, পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা ও শহুদুল হক, অতিরিক্ত আইজি খোদা বক্স, খালেদা জিয়ার ভাগনে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সিআইডির সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমীন, এএসপি আব্দুর রশিদ ও মুন্সি আতিকুর রহমান, ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা আরিফুর রহমান আরিফ, এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুর রহিম।
একযুগেরও বেশি সময় ধরে চলা এ মামলায় সব আসামির অপরাধ প্রমাণ করতে পেরেছেন দাবি করে তাদের সর্বোচ্চ সাজার আশা রাষ্ট্রপক্ষের।
বিগত ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলা চলেছে ১৭৫৪ কার্যদিবস। এর মধ্যে এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছে ২২৫ জন এবং আসামিপক্ষে ২০ জন। মামলার কার্যক্রম স্থগিতের জন্য উচ্চ আদালতে আসামিপক্ষের আবেদনের বিষয়ে সুরাহা হতে ২৯২ কার্যদিবস সময় লেগেছে। এরমধ্যে বিচারক পরিবর্তন হয়েছে একবার। ১২০ কার্যদিবস যুক্তিতর্কের মধ্যে আসামিপক্ষ সময় নিয়েছে ৯০ কার্যদিবস আর রাষ্ট্রপক্ষ নিয়েছে ৩০ কার্যদিবস।
ইতিহাসের অন্যতম এ নৃশংস হামলার ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছেন দাবি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান।
আসামিপক্ষের আইনজীবী এস এম শাহজাহান বলেন, আর এ মামলা ও রায়কে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক দাবি করেন।
মামলাটিতে আসামির সংখ্যা ৫২ জন হলেও যুদ্ধাপরাধী ও জামাত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুফতি হান্নানসহ ৩ জনের আলাদা মামলায় ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাদেরকে বাদ দেয়া হয়েছে। ৪৯ আসামির মধ্যে পলাতক রয়েছেন ১৮ জন।