জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া ১০ বছরের সাজার রায় স্থগিতের আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা।
সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে এ আবেদন করা হয়।
আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, সেই সঙ্গে খালেদা জিয়ার জামিনের জন্যও আবেদন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, একটি মিথ্যা, বানোয়ট, ভূয়া মামলার রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত। এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন বিএনপির চেয়ারপারসন।
কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে হাইকোর্টে এ মামলার শুনানির সময় বেধে দেয়। পাক-ভারত উপমহাদেশে এটা নজিরবিহীন ঘটনা। তাছাড়া আমরা আমাদের আপিল শুনানি শেষ না করার আগেই রায়ের দিন ঘোষণা করা হয়। দুদকের সাজা বাড়ানোর আবেদনেও আমরা শুনানি কমপ্লিট করতে পারিনি সে অবস্থায়ই রায় ঘোষণা করা হয়।
এ আইনজীবী বলেন, রায়ে বিচারিক আদালতের সাজা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার ঘটনাও ‘নজিরবিহীন। আপিলে সাধারণত সাজা কমে। কিন্তু খালেদা জিয়ার বেলায় সেটারও ব্যতিক্রম হল। এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে জজ আদালতের দেয়া সাত বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আপিল করার পরদিন এ ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্টের রায় স্থগিতের এ আবেদন করা হল।
বিদেশ থেকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে আসা দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এ মামলার রায়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত। ওই রায়ের পর থেকেই তিনি কারাগারে আছেন।
জজ আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল এবং দুদকের তরা রিভিশন আবেদনের শুনানি করে গত ৮ নভেম্বর রায় দেয় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ। তাতে খালেদা জিয়ার সাজা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়।
বিএনপি-জামাত জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদকের এ মামলা দায়ের করা হয়েছিল ২০০৮ সালে জরুরি অবস্থার মধ্যে।
এ মামলার অপর পাঁচ আসামি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান, সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল এবং ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদকে দেওয়া হয় দশ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড।
সেই সঙ্গে আসামিদের প্রত্যেককে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন বিচারক।