বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার তিন আসনে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে সোমবার হাইকোর্টে রিটের শুনানি শেষ হয়েছে। রিটরে ওপর আদেশের দিন আগামীকাল (মঙ্গলবার) ঠিক করেছে আদালত।
এর আগে গতকাল (রোববার) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট করা হয়।
বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের ডিভিশন বেঞ্চে এ রিটের শুনানি হবে।
গতকাল খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, মনোনয়নপত্র বাতিল করা ইসির সিদ্ধান্ত অবৈধ—এ কারণে রিট করা হয়েছে। ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও ৭ আসন থেকে দলীয় মনোনয়নপত্র দাখিল করেন খালেদা জিয়া। ইসির আগে যাচাই-বাছাইয়েও বাদ দেয়া হয় খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র।
গত ৮ ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয় নিম্ন আদালত। সেই থেকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন তিনি। মাঝে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ছিলেন তিনি। পরে আবার তাকে সেখানে ফিরিয়ে নেয়া হয়।
এরপর আপিল করলে সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করে হাইকোর্ট। এদিকে, জিয়া চ্যারিটবেল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড হয় তার।
মনোনয়ন বাতিলের দিন পুলিশ অভিযোগ করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাদণ্ড ভোগ করছেন সেহেতু নির্বাচন করতে পারবেন না। পরে রির্টানিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন।
গত শনিবার আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা পেতে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিলে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করে। আপিলও সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে তার আবেদন খারিজ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
আপিল শুনানির পর সন্ধ্যায় ইসি এ সিদ্ধান্ত জানায়। জ্যেষ্ঠ কমিশনার মাহবুব তালুকদার খালেদার মনোনয়ন বৈধ বলে রায় দিলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য তিন কমিশনার আপিলের বিরুদ্ধে রায় দেন।
ফলে খালেদার তিনটি আসনের মনোনয়নপত্রই বাতিল করা হয়। দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার কারণ দেখিয়ে খালেদার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে তিনটি আসনেই খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়।