সাংবাদিক গৌতম দাস হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ৯ আসামির মধ্যে ৫ জনের যাবজ্জীবন হাইকোর্টের রায়ে বহাল ও চার জনকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট।
বুধবার বিচারপতি এ কে এম আবদুল হাকিম ও বিচারপতি ফাতেমা নজীবের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করে।
বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ৯ আসামি হাইকোর্ট আপিল করেন যার ওপর ৯ জানুয়ারি শুনানি শেষ হয়। ওইদিন আদালত ৩০ জানুয়ারি রায়ের দিন ধার্য করে।
হাইকোর্টে যাবজ্জীবন বহাল থাকা পাঁচ জন হলো: আসিফ ইমরান, আসাদ বিন কাদির, সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, তামজিদ হোসেন বাবু ও আবু তাহের মর্তুজা ওরফে অ্যাপোলো।
খালাস পাওয়া চার জন হলো: আসিফ ইমতিয়াজ বুলু, কামরুল ইসলাম আপন, কাজী মুরাদ ও রাজীব হাসান মিয়া।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হারুন অর রশীদ সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জহির আহমেদ। আসামি পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী এস এম শাহ্জাহান, হেলাল উদ্দীন মোল্লা, শেখ বাহারুল ইসলাম, মাসুদুর রহমান প্রমুখ।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হারুন অর রশীদ প্রথম বলেন, পাঁচ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রয়েছে চারজন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে খালাস পেয়েছে, এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
মামলা সূত্র:
জানা গেছে, ২০০৫ সালে ফরিদপুর শহরের মুজিব সড়কের সংস্কার এবং পুনর্নির্মাণকাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ পরিবেশন করায় ‘সমকাল’-এর নিজস্ব প্রতিবেদক ও ফরিদপুর ব্যুরো কার্যালয়ের প্রধান গৌতম দাসের ওপর ক্ষুব্ধ হয় তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের মদদপুষ্ট ঠিকাদার গোষ্ঠী ও তাদের সহযোগী সন্ত্রাসী চক্র।
এ ঘটনার জের ধরে ওই বছরের ১৭ নভেম্বর স্থানীয় ব্যুরো কার্যালয়ে গৌতমকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। ওই দিনই ‘সমকাল’-এর জেলা প্রতিনিধি হাসান উজ্জামান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০০৬ সালের ২০ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম নবী আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ওই বছরের ১৫ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে মামলাটি ২০০৬ সালের ২৮ আগস্ট ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ স্থানান্তর করা হয়। মামলার আসামি জাহিদ খান পলাতক অবস্থায় ২০০৬ সালের ১২ অক্টোবর ঢাকায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ থেকে হাইকোর্টে আবেদন করা হলে আদালত মামলার কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত করার আদেশ দেয়। এরপর আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বারবার মামলার কার্যক্রম পেছাতে থাকে। পাঁচ বছর পর ২০১২ সালে হাইকোর্ট আসামিদের আবেদন নাকচ করে নিম্ন আদালতে মামলার কার্যক্রম চলতে বাধা নেই বলে আদেশ দেয়।
এরপর আবার শুরু হয় মামলার বিচারকাজ। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ২৭ জনের সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হয়। ২০১৩ সালের ২৭ জুন এ মামলায় নয় জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত।