আজ ১২ ভাদ্র। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৩৮তম প্রয়াণ দিবস। বাঙালি জাতি দ্রোহ আর প্রেমের ভাষা খুঁজে পেয়েছে এই বিদ্রোহী কবির কাছ থেকেই। বাঙালি সমাজ ও রাজনীতিতে এখনো তার প্রভাব বিদ্যমান।
স্বাধীনতা সংগ্রামসহ জাতির ক্রান্তিলগ্নে কবির গান ও কবিতা সবসময় প্রেরণা জুগিয়ে এসেছে মুক্তিকামী মানুষকে। বাংলা সাহিত্যে নজরুলের সৃষ্টি আজো অম্লান, যুগে যুগে নজরুল চিরভাস্বর হয়ে থাকবেন বাঙালির হৃদয়ে।
অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে অগ্নিঝরা বজ্রকণ্ঠ! অগ্নিবীণা আর বিষের বাঁশি নিয়ে বাংলার সাহিত্যাকাশে ধূমকেতুর মতো তার আবির্ভাব। লেখায় যেমন তার বিদ্রোহের সুর, তেমনি জীবন-কর্মেও তার প্রকাশ।
প্রেম, দ্রোহ আর নবজাগরণের কবি -কাজী নজরুল ইসলাম। ইস্পাত-কঠিন দৃঢ়তা নিয়ে সারাজীবন সংগ্রাম করে গেছেন শোষণ আর-বঞ্চনার বিরুদ্ধে।
সাম্য আর মানবতাবাদী এই কবি সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, কুপমণ্ডুকতা, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ছিলেন সবসময় সোচ্চার। রুটির দোকানে কাজ করা আর লেটো দলে গান গাওয়া এই নজরুলই মুক্তবুদ্ধি ও চিন্তার পক্ষে কলম চালিয়েছেন নির্ভিক চিত্তে। করেছেন কারাবরণও।
কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাসে- ভরিয়ে দেন রবীন্দ্রোত্তোর বাংলা সাহিত্যকে। সাহিত্যিক জীবনে প্রবেশের আগে কিছুদিন কাজ করেন সেনাবাহিনীতে। পরে সাংবাদিকতা। সম্পাদনা করেন নবযুগ, লাঙ্গল, ধূমকেতুর মতো সাময়িকী। জড়িয়ে যান ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামে। রচনা করেন ‘বিদ্রোহ’ আর ‘ভাঙ্গার গান’-এর মতো কবিতা।
যেকোন সঙ্কটে, আন্দোলনে, প্রতিবাদে জাতিকে আজো প্রেরণা জোগায় নজরুলের কবিতা, গান।
১৯৪২ সালে অসুস্থ হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন কবি।
১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে কবি নজরুলকে সপরিবার ঢাকায় নিয়ে আসেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭৬ সালে তাকে দেয়া হয় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব। ফেব্রুয়ারিতে একুশে পদকেও ভুষিত করা হয় কবিকে।
ওই বছরই ২৯ আগস্ট রাজধানীর পিজি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কবি। অবসান ঘটে দীর্ঘ ৩৪ বছরের নীরবতার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত প্রেম আর দ্রোহের এই কবি।