নজরুল সংগীতের বিশিষ্ট শিল্পী ফিরোজা বেগমের অবস্থা সংকটাপন্ন। তিনি রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছে।
চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, তার হূদযন্ত্র ও কিডনি স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। পাশাপাশি তার শরীরে জন্ডিস ধরা পড়েছে। ফিরোজা বেগমকে সুস্থ করে তোলার জন্য তারা সব ধরনের চেষ্টাই চালানো হচ্ছে। কিন্তু চিকিত্সায় সেভাবে সাড়া না দেয়ায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে।
বেলা ১১টা ২৬ মিনিটে হাসপাতাল থেকে ফিরোজা বেগমের ছেলে হামিন আহমেদ জানান, গত সপ্তাহে মাকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর গত বুধবার তাকে বাসায় নেয়া হয়। কিন্তু আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ায় গত শুক্রবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হামিন আহমেদ তার মায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
তার চিকিত্সার দায়িত্বে আছেন চিকিত্সক কৃষ্ণ মোহন সাহু ও মজিবুর রহমান।
ফিরোজা বেগমের জন্ম ১৯৩০ সালের ২৮ জুলাই ফরিদপুরের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে। তার বাবার নাম খান বাহাদুর মোহাম্মদ ইসমাইল এবং মায়ের নাম বেগম কওকাবুন্নেসা। ১৯৫৫ সালে বিরলপ্রজ সুরকার কমল দাশগুপ্তের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তার তিন সন্তান - তাহসিন, হামীন ও শাফীন।
কর্মজীবন ও সংগীত জীবন
১৯৪২ সালে ১২ বছর বয়সে বিখ্যাত গ্রামোফোন কোম্পানি থেকে ইসলামী গান নিয়ে তার প্রথম রেকর্ড বের হয়। কিছুদিন পর কমল দাশগুপ্তের তত্ত্বাবধানে উর্দু গানের রেকর্ড হয়। এ রেকর্ডের গান ছিল- 'ম্যায় প্রেম ভরে, প্রীত ভরে শুনাউ' আর 'প্রীত শিখানে আয়া'। নজরুলের গান নিয়ে প্রকাশিত তার প্রথম রেকর্ড বের হয় ১৯৪৯ সালে।
১৯৭২ সালে কলকাতায় বঙ্গ-সংস্কৃতি-সম্মেলন-মঞ্চে কমল দাশগুপ্তের ছাত্রী ও সহধর্মিণী হিসেবে তিনি ছিলেন মূখ্যশিল্পী। উভয়ের দ্বৈতসঙ্গীত সকল শ্রোতা-দর্শককে ব্যাপকভাবে বিমোহিত করেছিল।