স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট নজরুল সংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগম মারা গেছেন। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীরর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শোক প্রকাশ।
বুধবার ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা, বাদ আসর গুলশান আজাদ মসজিদে নামাজের জানাজা। পরে বনানী কবরস্থানে দাফন করার করা হবে বলে জানান গেছে।
এর আগে বিকেলে তার ছেলে হামিন আহমেদ তার সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, তার মায়ের শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে।
চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, তার হৃদযন্ত্র ও কিডনি স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। পাশাপাশি তার শরীরে জন্ডিস ধরা পড়েছে। ফিরোজা বেগমকে সুস্থ করে তোলার জন্য তারা সব ধরনের চেষ্টাই চালানো হচ্ছে। কিন্তু চিকিত্সায় সেভাবে সাড়া না দেয়ায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে।
সোমবার ফিরোজা বেগমের ছেলে হামিন আহমেদ জানান, গত সপ্তাহে মাকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর গত বুধবার তাকে বাসায় নেয়া হয়। কিন্তু আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ায় গত শুক্রবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হামিন আহমেদ তার মায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
তার চিকিত্সার দায়িত্বে আছেন চিকিত্সক কৃষ্ণ মোহন সাহু ও মজিবুর রহমান।
ফিরোজা বেগমের জন্ম ১৯৩০ সালের ২৮ জুলাই ফরিদপুরের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে। তার বাবার নাম খান বাহাদুর মোহাম্মদ ইসমাইল এবং মায়ের নাম বেগম কওকাবুন্নেসা। ১৯৫৫ সালে বিরলপ্রজ সুরকার কমল দাশগুপ্তের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তার তিন সন্তান - তাহসিন, হামীন ও শাফীন।
কর্মজীবন ও সংগীত জীবন
১৯৪২ সালে ১২ বছর বয়সে বিখ্যাত গ্রামোফোন কোম্পানি থেকে ইসলামী গান নিয়ে তার প্রথম রেকর্ড বের হয়। কিছুদিন পর কমল দাশগুপ্তের তত্ত্বাবধানে উর্দু গানের রেকর্ড হয়। এ রেকর্ডের গান ছিল- 'ম্যায় প্রেম ভরে, প্রীত ভরে শুনাউ' আর 'প্রীত শিখানে আয়া'। নজরুলের গান নিয়ে প্রকাশিত তার প্রথম রেকর্ড বের হয় ১৯৪৯ সালে।
১৯৭২ সালে কলকাতায় বঙ্গ-সংস্কৃতি-সম্মেলন-মঞ্চে কমল দাশগুপ্তের ছাত্রী ও সহধর্মিণী হিসেবে তিনি ছিলেন মূখ্যশিল্পী। উভয়ের দ্বৈতসঙ্গীত সকল শ্রোতা-দর্শককে ব্যাপকভাবে বিমোহিত করেছিল।