ডিজনির ছবি মানেই যত অদ্ভুত চরিত্রের মজার মজার সংলাপে ভরা কোনো আজব রাজ্যের কাহিনি। কখনো রাজকুমার আর রাজকন্যার মিষ্টি প্রেমের ফাঁকেই ডাইনি বুড়ির কাঠির ছোঁয়ায় মায়াবি রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া। রূপকথার একেকটা রোমাঞ্চকর গল্প বইয়ের পাতা থেকে সেলুলয়েডের ফিতায় বন্দী হয়েছে ডিজনির হাত ধরেই। হতচ্ছাড়া কল্পলোককে আপন বানিয়ে দেয়া ডিজনি এবার বানাল বলিউড ছবি।
মনে আছে হৃষিকেশ মুখার্জির খুবসুরত-এর রেখাকে? দুই বিনুনি বাঁধা সেই দুষ্টমিষ্টি মঞ্জু? দিদির শ্বশুরবাড়িতে এসে যিনি প্রায় হাঙ্গামাই বাধিয়ে দিয়েছিলেন। ১৯৮০ সালে নির্মিত এই ছবিই বলিউড অভিনেত্রী রেখাকে এনে দিয়েছিল প্রথমবারের মতো সেরা অভিনেত্রীর ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। সেরা চলচ্চিত্র হিসেবেও ছবিটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছিল ওই বছর। হৃষিকেশ মুখার্জির সেই জনপ্রিয় ছবিরই রিমেক ডিজনির খুবসুরত।
তিন দশকেরও বেশি সময় পর নির্মিত এই রিমেকে রেখার জুতোয় পা গলিয়েছেন অনিলকন্যা সোনম কাপুর। তবে রিমেকের গল্পটা এই সময়ের। মূল ছবির মতো দিদির শ্বশুরবাড়ির গল্প নেই এখানে। ছবির চিত্রনাট্য ও চরিত্রগুলো সাজানো হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে। রিমেকের মূল চেষ্টাই ছিল এ সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ছবিটির প্রতিটি চরিত্রের মূলভাব ফুটিয়ে তোলা। আর রেখার চরিত্রটি আধুনিকভাবে ফুটিয়ে তোলাই ছিল সোনমের মূল লক্ষ্য।
ছবিতে সোনমের বিপরীতে অভিনয় করেছেন পাকিস্তানি গায়ক-অভিনেতা ফাওয়াদ আফজাল খান। রাঠোড় পরিবারের রাজপুত্র বিক্রম সিংহ রাঠোড় চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। হিন্দি ছবিতে এবারই প্রথম অভিনয় করেছেন ফাওয়াদ।
নতুন ছবিতে আরও এক সংযোজন রয়েছে। আগের ছবিতে রেখার মায়ের চরিত্রটাই ছিল না। নতুন চিত্রনাট্যে এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন কিরণ খের। মূল ছবিতে রেখার নাম ছিল মঞ্জু। রিমেকে সোনমের মায়ের চরিত্রের নাম মঞ্জু। হৃষিকেশের মতো রিমেকটি পরিচালনায় রয়েছেন আরেক বাঙালি পরিচালক শশাঙ্ক ঘোষ।
বলিউডে সোনমকে সবাই সুপার স্টাইলিশ বলেই জানে। নারীদের চোখে তিনি স্টাইল আইকনও। আর ডিজনির ছবি করে সোনম কাপুর এখন ভারতের প্রথম ডিজনি গার্ল। তবে রেখার চরিত্রে অভিনয় করতে পেরেই নিজেকে ‘লাকি’ মনে করছেন। ছবির বিশেষ প্রদর্শনীতে গিয়ে সোনমের অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন রেখা।
সারাক্ষণ নিজের ইনস্টাগ্রামের ফ্যাশন টিপস নিয়ে পড়ে থাকা অনিলকন্যার অভিনয়ের জগতে ডানা মেলার সময়টা এখনই। খানিকটা তাচ্ছিল্যের সুরে কেউ কেউ স্টাইল আইকন বললেও ভাগ মিলখা ভাগ কিংবা রানঝানার পর সোনম তবে সেই ধারণাটা পাল্টে দিয়েছেন। সত্যিই সোনমকে হয়তো আর ‘খুবসুরত’ তকমায় আটকে রাখা যাবে না কিংবা শুধু স্টাইলের জন্যই আর শিরোনামে আসতে হবে না। ডিজনিকন্যার বলিউডের রানি হয়ে ওঠার জন্য এখন দরকার শুধু ইচ্ছেটাই। সূত্র: ইন্ডিয়া টাইমস, বলিউড হাঙ্গামা, ওয়ান ইন্ডিয়া, ফিল্মফেয়ার অবলম্বনে