বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী আর নেই। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বনানীতে নিজ বাসায় মারা যান তিনি।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। তার মরদেহ রাজধানীর একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। প্রবাসে থাকা জিল্লুর রহমানের সন্তানরা দেশে ফিরলে দাফন ও জানাজার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মেজ ছেলে ডা. শাকিল আহমেদ।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর অসুস্থতা বোধ করেন জিল্লুর রহমান। রাত ১টার দিকে হাসপাতালে নেয়া হলে কতর্ব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী একদিকে শিক্ষাবিদ এবং অপরদিকে সাহিত্যিক। সাহিত্যের পাশাপাশি লিখেছেন প্রবন্ধ। লিখেছেন ভ্রমণবাহিনী; অনুবাদ করেছেন ইংরেজি সাহিত্য থেকে। শিক্ষক, উপাচার্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য পেয়েছেন স্বাধীনতা পুরস্কারসহ নানা পুরস্কার।
অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী। জন্ম ঝিনাইদহের দুর্গাপুর গ্রামে ১৯২৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। বাবা, ফজলুর রহমান সিদ্দিকী ছিলেন স্কুল শিক্ষক। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে জিল্লুর রহমান ছিলেন সবার বড়।
১৯৪৫ সালে যশোর জিলা স্কুল থেকে ম্যাটিকুলেশন পাস করে তিনি ভর্তি হন কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে বি. এ. ও এম. এ. করে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নেন। শিক্ষকতা করেন ঢাকা কলেজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। দায়িত্ব পালন করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে। কাজ করেছেন রেডিও পাকিস্তানেও।
শিক্ষকতার পাশাপাশি লিখেছেন সাহিত্য, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনী। অনুবাদ করেছেন ইংরেজি সাহিত্য থেকে। জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, বাঙালীর আত্মপরিচয়, শব্দের সীমানা, কোয়েস্ট ফর আ সিভিল সোসাইটি। বাংলা একাডেমির ইংরেজি থেকে বাংলা অভিধানের সম্পাদক ছিলেন তিনি।
বাংলা সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য ২০১০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার পান তিনি। পেয়েছেন আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারও।