ঢাকায় শুরু হচ্ছে ঊচ্চাঙ্গসঙ্গীতের বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর। পাঁচ দিনের উৎসবে কণ্ঠ ও যন্ত্রের সুর মূর্ছনা ছড়াবেন বাংলাদেশ এবং ভারতের দেড় শতাধিক সঙ্গীতজ্ঞ। পুরো আয়োজনটি উৎসর্গ করা হয়েছে পল্লীকবি জসীমউদ্দীনকে।
শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি এবারও উপস্থাপিত হবে ধ্রুপদী আঙ্গিকের ধ্রুপদ-ধামার, সেতার, সরোদ, সন্তুর, বাঁশি, স্লাইড গিটার আর ভরতনাট্যম নৃত্যের পরিবেশনা।
তৃতীয় বারের মতো এ উৎসবের আয়োজন করছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। রাজধানী ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে উৎসবের প্রথমদিন ছাড়া অন্য চারদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হয়ে চলবে পরদিন ভোর ৫টা পর্যন্ত।
উৎসবের পৃষ্ঠপোষক স্কয়ার গ্রুপ ও ব্র্যাক ব্যাংক। সুর মূর্ছনা ছড়াবেন সঙ্গীতজ্ঞরা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এ উৎসবের উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি থাকবেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ, স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক ও মাছরাঙা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী এবং ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবুল খায়ের লিটু। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে শুরু হয়ে একটানা অনুষ্ঠান চলবে ভোর ৫টা পর্যন্ত। উদ্বোধনী আয়োজনের শুরুতে অর্ধশতাধিক বাংলাদেশি শিল্পী উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করবেন।
এর পর মূল আয়োজনে কণ্ঠে শাস্ত্রীয়সঙ্গীত পরিবেশন করবেন ভারতের অজয় চক্রবর্তী ও রুচিরা কেদার। স্লাইড গিটার পরিবেশন করবেন দেবাশিস ভট্টাচার্য। সেতার বাজিয়ে শোনাবেন ওস্তাদ শহীদ পারভেজ খান। ভরতনাট্যম নৃত্য পরিবেশন করবেন বিদূষী মালবিকা সারুক্কাই। সরোদে সুর তুলবেন রাজরূপা চৌধুরী। তবলায় সুর তুলবেন ওস্তাদ মোহাম্মদ আকরাম খান ও আজিনক্যা যোশী।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন কাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় অধিবেশন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। এদিন কণ্ঠে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন রাজন মিশ্র, সাজন মিশ্র, উম্মেকান্ত গুণ্ডেচা, রমাকান্ত গুণ্ডেচা ও সুপ্রিয়া দাশ। সরোদ বাজাবেন আবির হোসেন। সন্তুর বাজাবেন রাহুল শর্মা। কর্নাটকী তালবাদ্যে সুর তুলবেন কড়াইকুডি মানি। এর আগে অনুষ্ঠানের সূচনা হবে সম্মিলিতভাবে তবলায় সুর তোলার মধ্য দিয়ে। এতে অংশ নেবেন গৌতম সরকার, জাকির হোসেন ও বিশ্বজিৎ নাট্য। তাদের সঙ্গে মৃদঙ্গে সঙ্গত দেবেন ইনামুল হক।
তৃতীয় দিন শনিবারের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এদিন সন্তুরে থাকছেন প িত শিবকুমার শর্মা, কণ্ঠে প িত উলহাস কশলকার, অরুণা সাইরাম, অসিত রায় ও মঞ্জুষা পাতিল। সেতারে নিশিত দে ও কুশন দাশ।
উৎসবের চতুর্থ দিন রোববারের অধিবেশন উদ্বোধন করবেন ইমেরিটাস প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান। এদিনের মূল আকর্ষণ উপমহাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার বাঁশি। কণ্ঠসুরের ইন্দ্রজাল সৃষ্টি করবেন কৌশিকী চক্রবর্তী, সামিহান কশলকার। তবলায় বোল তুলবেন স্বরূপ হোসেন। সরোদে আমান আলী খান ও আয়ান আলী খান। এদিনের অনুষ্ঠানের সূচনা হবে অমিত চৌধুরীর ভরতনাট্যমের মধ্য দিয়ে।
উৎসবের পঞ্চম ও শেষ দিন সোমবার সরোদ বাজাবেন আমজাদ আলী খান, কণ্ঠে উদয় ভাওয়ালকার, অশ্বিনীভিডে দেশ পাণ্ডে, কিশোরী আমানকার। বাঁশিতে সুর তুলবেন মনিরুজ্জামান। এর আগে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করবেন বাংলাদেশের অর্ধশতাধিক শিল্পী। এদিনের অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করবেন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদ।
বাকশিল্পাঙ্গনের আবৃত্তির আসর : শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হল মিলনায়তনে বুধবার সন্ধ্যায় ছিল বাকশিল্পাঙ্গনের আয়োজনে একক আবৃত্তি অনুষ্ঠান 'আবৃত্তির আসর, কবিতার কথা।
আবৃত্তি করেন সুবিদিতা চন্দ সোনালী, মনোয়ার মাহমুদ জুয়েল, সুপ্রভা সেবতী ও আজহারুন নবী রানা। এর আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।